পরমা একাদশীতে ভুলেও করবেন না এই ৫টি কাজ, হতে পারে মহাপাপ! জেনে নিন সঠিক তারিখ ও নিয়ম

পুণ্যলাভের মহা সুযোগ নিয়ে তিন বছর পর ফিরছে পরমা একাদশী, জেনে নিন দিনক্ষণ ও বর্জনীয় নিয়মাবলী
সনাতন ধর্মে একাদশী তিথির গুরুত্ব অপরিসীম হলেও, মলমাস বা অধিক মাসের একাদশীর মাহাত্ম্য থাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্তরে। প্রতি তিন বছর অন্তর হিন্দু পঞ্জিকায় যুক্ত হওয়া এই মলমাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ভক্তকূলে। ২০২৬ সালের ১৭ মে থেকে শুরু হওয়া জ্যৈষ্ঠ মাসের মলমাস আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত চলবে। আর এই মলমাসের কৃষ্ণপক্ষের বিশেষ তিথিটিই ‘পরমা একাদশী’ বা ‘কমলা একাদশী’ নামে পরিচিত, যা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে বিবেচিত হয়।
একাদশীর দিনক্ষণ ও ধর্মীয় গুরুত্ব
পঞ্জিকা মতে, ২০২৬ সালের মলমাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিটি শুরু হচ্ছে ১০ জুন, বুধবার রাত ১২:৫৮ মিনিটে এবং তা শেষ হবে পরদিন অর্থাৎ ১১ জুন, বৃহস্পতিবার রাত ১০:৩৬ মিনিটে। সনাতন ধর্মের উদয়া তিথির নিয়ম মেনে আগামী ১১ জুন, বৃহস্পতিবারই দেশজুড়ে উদযাপিত হবে পবিত্র পরমা একাদশী ব্রত। জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিথিতে নিষ্ঠাভরে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ হয়।
শুভ ফলের আশায় বর্জনীয় ও করণীয় বিষয়
শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, পরমা একাদশীর দিন কিছু কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিশেষ তিথিতে অন্ন বা ভাত গ্রহণ করাকে মহাপাপ বলে গণ্য করা হয়, তাই ব্রতীদের চালের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া যেকোনো ধরণের আমিষ আহার, অ্যালকোহল, ধূমপান বা তামসিক উপাদান বর্জন করা বাধ্যতামূলক। শুধু খাদ্যাভ্যাসই নয়, এই দিনে নেতিবাচক চিন্তা, ক্রোধ, মিথ্যা কথা, পরনিন্দা এবং কাউকে আঘাত বা অপমান করা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় জীবনে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিপরীতে, জীবনের শুভ প্রভাব ও মানসিক শান্তির জন্য এই দিন সকালে দ্রুত স্নান সেরে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করার বিধান রয়েছে। সারাদিন মন শান্ত রেখে ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ, বিষ্ণু সহস্রনাম বা গীতা পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই পুণ্যলগ্নে দুস্থ ও অভাবী মানুষদের অন্ন, বস্ত্র বা অর্থ দান করলে অশেষ পুণ্য লাভ হয়। সম্ভব হলে একাদশীর রাতে ভজন-কীর্তনের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনায় জাগ্রত থাকার নিয়মও প্রচলিত রয়েছে।