LPMS: এবার স্মার্ট হবে ভারতের ল্যান্ড পোর্টগুলি, সীমান্ত বাণিজ্য ও নিরাপত্তায় গতি আসবে

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ ভারতের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি ল্যান্ড পোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LPMS) ‘বিনিময়’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন।
এটি এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের সমস্ত ল্যান্ড পোর্ট বা স্থল বন্দরগুলির পরিচালনাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তি-চালিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এলপিএমএস (LPMS) বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয় স্থাপন করবে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে কাস্টমস (শুল্ক বিভাগ), ইমিগ্রেশন (অভিবাসন), সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (BSF) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে লজিস্টিকস ও নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত তথ্যের নিরাপদ এবং রিয়েল-টাইম আদান-প্রদান সম্ভব হবে। এর ফলে সীমান্ত বাণিজ্য এবং যাত্রীদের যাতায়াত প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হবে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’-এর দিকে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন থেকে বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরের মতোই ল্যান্ড পোর্টগুলিকেও আধুনিক ডিজিটাল সুবিধায় সজ্জিত করা হবে, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় কাজের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যয়িত সময় হ্রাস পাবে।
এলপিএমএস (LPMS)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: ল্যান্ড পোর্টগুলির সঙ্গে যুক্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের এক মঞ্চে নিয়ে আসে।
- রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ারিং: কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং অন্যান্য এজেন্সির মধ্যে সুরক্ষিত ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান।
- এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো: পণ্যবাহী যান এবং যাত্রীদের যাতায়াতের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে পরিচালিত হবে।
- স্লট বুকিং সুবিধা: যানবাহন এবং কার্গোর জন্য অগ্রিম স্লট বুকিংয়ের ব্যবস্থা।
- অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম: যাবতীয় ফি এবং অন্যান্য খরচ ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
- ট্র্যাকিং সিস্টেম: কার্গো, যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ।
- সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স: বিভিন্ন অনুমোদন এবং আনুষ্ঠানিকতার জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা।
এই নতুন প্ল্যাটফর্মটি ইন্ডিয়ান কাস্টমস ইলেকট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ গেটওয়ে (ICEGATE), ইউনিফাইড লজিস্টিকস ইন্টারফেস প্ল্যাটফর্ম (ULIP) এবং মোটর ভেহিকল ইকোসিস্টেমের মতো দেশের প্রধান ডিজিটাল নেটওয়ার্কগুলির সাথে যুক্ত রয়েছে। এটি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজ করবে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করে তুলবে।
ভারতের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ ভিশনের অংশ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, এলপিএমএস শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি ভারতের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ ভিশনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে নতুনভাবে সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (LPAI) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা, যা দেশের স্থল বন্দরগুলির উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। বর্তমানে এলপিএআই (LPAI) ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তে ১৫টি ল্যান্ড পোর্ট পরিচালনা করছে, যার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য, যাতায়াত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হয়।
বর্তমানে এলপিএআই-এর অধীনে থাকা ১৫টি ল্যান্ড পোর্ট:
- ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত: আটারি (পাঞ্জাব) ও ডেরা বাবা নানক (পাঞ্জাব)।
- ভারত-নেপাল সীমান্ত: রূপাইডিহা (উত্তরপ্রদেশ), রক্সৌল (বিহার) ও যোগবনী (বিহার)।
- ভারত-ভুটান সীমান্ত: দারঙ্গা (আসাম)।
- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত: পেট্রাপোল (পশ্চিমবঙ্গ), ডাউকি (মেঘালয়), সুতারকান্দি, গোলকগঞ্জ ও মানকাচর (আসাম), আগরতলা, শ্রীমন্তপুর ও সবরুম (ত্রিপুরা)।
- ভারত-মায়ানমার সীমান্ত: মোরে (মণিপুর)।