পাকিস্তানকে টপকে পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারে বড় লাফ ভারতের!

পাকিস্তানকে টপকে পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারে বড় লাফ ভারতের!

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার বৃদ্ধিতে ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারতের কাছে ১৯০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০টি বেশি। এই বৃদ্ধির ফলে পাকিস্তান, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়াকে পেছনে ফেলে ভারত এগিয়ে গেছে। মূলত কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবেই ভারত তার এই সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।

কৌশলগত নীতিতে ভারতের বড় পরিবর্তন

ভারতের এই অর্জনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রথমবারের মতো শান্তি সময়ের মধ্যেও ১২টি পরমাণু অস্ত্র সরাসরি মোতায়েন রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারত তার পরমাণু অস্ত্র এবং লঞ্চার বা ক্ষেপণাস্ত্র আলাদা রাখার নীতি (ডি-মেটেড পোস্টার) অনুসরণ করে আসছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ক্যানিস্টার প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু টহলের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে এই নীতিতে আংশিক পরিবর্তন এসেছে। এই পদক্ষেপটি চীন এবং পাকিস্তান—উভয় দেশের বিরুদ্ধেই ভারতের নির্ভরযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সমীকরণ

পাকিস্তানের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৭০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, যা ভারতের তুলনায় কম। অন্যদিকে, চীন প্রায় ৬২০টি পরমাণু অস্ত্র নিয়ে এশিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। বিশ্বজুড়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পরমাণু অস্ত্রের সিংহভাগ থাকলেও, ভারত তার নিজস্ব নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। পরমাণু অস্ত্র ও প্রযুক্তির এই আধুনিকায়ন দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ভারতকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *