বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস, বাতিল মীনাক্ষী নটরাজনের রাজ্যসভার মনোনয়ন!

মধ্যপ্রদেশ রাজ্যসভা নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেল কংগ্রেস। দলটির প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার অরবিন্দ শর্মা। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ২৬ নম্বর ফর্মে একটি চলমান আইনি মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। রিটার্নিং অফিসারের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, হায়দরাবাদের একটি আদালতে ওই মামলার বিষয়টি বিচারাধীন এবং প্রার্থীকে সমনও পাঠানো হয়েছে। এই তথ্য গোপনের কারণেই তাঁর মনোনয়ন খারিজ করা হয়েছে। বিজেপি এই রায়কে ‘সত্যের জয়’ বলে দাবি করলেও, কংগ্রেস এটিকে পরিকল্পিতভাবে ‘সিট চুরির’ চেষ্টা বলে তীব্র নিন্দা করেছে।
আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপির অভিযোগ ছিল, মীনাক্ষী নটরাজন হায়দরাবাদের একটি আদালতে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি। রিটার্নিং অফিসারের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত হিসেবে ওই মামলার বিষয়ে প্রার্থী অবগত ছিলেন এবং আদালতে জবাবও দাখিল করেছেন। কিন্তু মনোনয়নপত্রের ফর্মে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পাল্টা যুক্তি দিয়ে কংগ্রেস নেতা বিবেক তনখা দাবি করেছেন, কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, বরং ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যা কেবল দেওয়ানি প্রকৃতির। এই আইনি বিতর্কের ফলে এখন বিষয়টি উচ্চতর আইনি হস্তক্ষেপ বা কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
নির্বাচনী সমীকরণ ও প্রভাব
এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনের অঙ্ক আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিধানসভার বর্তমান সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে কংগ্রেসের পক্ষে একটি আসন জয় নিশ্চিত ছিল, কিন্তু বিজেপির তৃতীয় প্রার্থী মহেশ কেবটকে মাঠে নামানোয় ভোটের লড়াইটি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সম্ভাব্য ক্রস ভোটিং ও রাজনৈতিক দল ভাঙার আশঙ্কা থেকে কংগ্রেস তাদের বিধায়কদের কর্ণাটকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন বাতিল কেবল সংখ্যাতত্ত্বের লড়াইকে সীমিত করেনি, বরং এটি এখন দলগত শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক কৌশল পরিচালনার একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আগামী ১৮ জুন নির্বাচনের দিনই স্পষ্ট হবে এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত ফলাফল।