লোকসভার পর রাজ্যসভায় বড় ভাঙন! তৃণমূলের অন্দরে কি চূড়ান্ত পতন?

লোকসভার পর রাজ্যসভায় বড় ভাঙন! তৃণমূলের অন্দরে কি চূড়ান্ত পতন?

লোকসভার গণ্ডি পেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের আঁচ এবার পৌঁছেছে রাজ্যসভাতেও। দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এবং নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরবর্তী পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া এই সংকট তৃণমূলের জন্য বড়সড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে লোকসভার ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ করে চিঠি দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। স্পিকারের রাজধানীতে ফেরার অপেক্ষাতেই রয়েছে রাজনৈতিক মহল, যার পরই লোকসভায় দলীয় কাঠামোয় চূড়ান্ত পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের অন্দরে কি চূড়ান্ত ফাটল?

রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র, দুর্নীতি এবং নিচু স্তরের কর্মীদের সঙ্গে সংযোগহীনতার অভিযোগ তুলেছেন বিদ্রোহীরা। শতাব্দী রায়ের মতো সাংসদরা সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের বিপর্যয় নিয়েও দলের অন্দরে কোনো গঠনমূলক আলোচনা হয়নি। একদিকে যখন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহীদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর মতো নেতারা উন্নয়নের স্বার্থে এনডিএ-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও দেবের মতো সাংসদরা নেত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যের কথা জানিয়েছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের আড়ালে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

রাজ্যসভায় বাড়ছে অস্বস্তি

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেও, দলের ভাঙন রোধে তাদের প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভার অন্তত তিনজন তৃণমূল সাংসদ বিজেপির এক হেভিওয়েট নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতিকে দলের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা বলে দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূলের অন্দরের এই ডামাডোল এবং একের পর এক সাংসদের পক্ষ ত্যাগের প্রবণতা বাংলার রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা তৃণমূলের শক্তিকেন্দ্রকে কার্যত নড়বড়ে করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *