রাজনীতির ঊর্ধ্বে উন্নয়ন, বিরোধীদের সঙ্গে সেতুবন্ধনে নজির গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!
প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী সাংসদ ও বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজনৈতিক সৌজন্যের এক নতুন নজির তৈরি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানান, বিরোধীরা এখন প্রশাসনিক মঞ্চে কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতা পাচ্ছেন। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাধারা সরিয়ে শাসক ও বিরোধী পক্ষকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই বৈঠকের মাধ্যমেই রাজ্যের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে উন্নয়নের গতি ফেরাতে চাইছেন তিনি।
উন্নয়নের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ শাসক ও বিরোধী
রাজ্য জুড়ে জেলাভিত্তিক প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদরাও এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও তর্কাতর্কি স্বাভাবিক, কিন্তু সারা বছর উন্নয়নের কাজ যৌথভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। কোলাঘাটের বৈঠকের পর বিরোধী শিবিরের এক সাংসদ নিজেও স্বীকার করেছেন যে, বর্তমান সরকার তাঁদের প্রশাসনিক মঞ্চে কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উন্নয়নের কাজগুলোয় গতি আসবে এবং জনপ্রতিনিধিরা জনস্বার্থের বিষয়গুলো সরাসরি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ও স্বচ্ছ শাসনের বার্তা
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়ন এখন রাজ্যের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ দেবের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। কে ক্রেডিট পাবে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা—এমনই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেবও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উন্নয়নের স্বার্থে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্নীতি ও পার্টি অফিসের প্রভাব দূর করে আইনের শাসন কায়েম করার ওপরও মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়েছেন। শাসক ও বিরোধীর এই নতুন বন্ডিং বা সেতুবন্ধন রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।