অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ধ্বংসের বদলা, ইরানে ভয়াবহ হামলা আমেরিকার!

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনার একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যাপাচে’ হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হানল ওয়াশিংটন। ইরানের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পরেই মূলত এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)।
গত সোমবার ওমান উপকূলে টহলের সময় মার্কিন হেলিকপ্টারটি আক্রান্ত হয়। হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়লেও চালকবিহীন ড্রোনের সাহায্যে পাইলটদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই সেন্টকমের নির্দেশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এটি ইরানের অন্যায্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক যথাযথ ও আনুপাতিক পদক্ষেপ।
উত্তপ্ত হরমুজ, অনিশ্চিত শান্তি আলোচনা
মার্কিন হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশ, বন্দর আব্বাস, সিরিক ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে ইরান এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ওপর যেকোনো আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত তারা।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেই ট্রাম্প শান্তি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক এই সংঘাতের ফলে সেই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।