তিলোত্তমা নয়, বড়পর্দায় আসছে রাজনৈতিক স্যাটায়ার ‘হীরক রানীর দেশে’!

২০২৪ সালের আলোচিত অভয়া কাণ্ডের ছায়ায় ‘তিলোত্তমা’ নামের একটি সিনেমা তৈরির জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। মধ্য কলকাতার একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি। অভ্যাসের বশে তৈরি হওয়া চিত্রনাট্য ও পূর্বঘোষণা থেকে সরে এসে নির্মাতা জানান, এই মুহূর্তে ‘তিলোত্তমা’ শিরোনামে কোনো কাজ হচ্ছে না। এর পরিবর্তে রাজনৈতিক স্যাটায়ার ঘরানার নতুন সিনেমা ‘হীরক রানীর দেশে’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
কেন পিছু হটল টিম?
প্রায় এক বছর ধরে গভীর গবেষণার পর ‘তিলোত্তমা’ তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছিলেন পরিচালক। নির্ধারিত সাংবাদিক সম্মেলনে জলহাটির বিধায়ক তথা অভয়ার মায়ের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি গরহাজির থাকেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির কারণ হিসেবে পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় জানান, অভয়ার পরিবারের তরফ থেকে ছবিটির জন্য সম্মতি পাওয়া যায়নি। তিনি একজন মায়ের সিদ্ধান্ত ও আবেগকে সম্মান জানিয়েই স্পর্শকাতর এই প্রজেক্ট থেকে সরে এসেছেন। অতীতে ‘এসকেপ ফ্রম তালিবান’ সিনেমা তৈরির সময়ও তিনি এমন পারিবারিক আপত্তির মুখে পড়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। মূলত বাস্তবের মর্মান্তিক এই ঘটনার আইনি ও সংবেদনশীল দিক বিবেচনা করেই পরিবার আপত্তি জানিয়েছে, যার ফলে সরাসরি সেই ঘটনা নির্ভর ছবি না বানিয়ে রূপকধর্মী রাজনৈতিক স্যাটায়ারের পথে হেঁটেছেন নির্মাতা।
তারকাবহুল নতুন ছবি ও শুটিংয়ের পরিকল্পনা
‘তিলোত্তমা’ বাতিল হলেও নতুন ছবি ‘হীরক রানীর দেশে’-র মাধ্যমে বড় চমক হিসেবে বাংলা সিনেমায় ফিরছেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী জয়াপ্রদা। ছবিতে হীরক রানীরূপেই তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন বাদশা মৈত্র, রাজনন্দিনী পাল, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় ও অমৃতা চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত মুখেরা। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুন মাসেই ছবিটির দৃশ্যধারণের কাজ শুরু হবে এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তি পাবে। নতুন এই পলিটিক্যাল স্যাটায়ারটি বাংলার সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশ বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।