মোদির উপস্থিতিতে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস, গিনেস বুকে নাম তুলতে নবান্নে জোর প্রস্তুতি!

আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশ্বমঞ্চে নজর কাড়তে চলেছে তিলোত্তমা কলকাতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে এই মেগা ইভেন্ট সফল করতে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে এক নজিরবিহীন প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই উপলক্ষ্যে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খাঁসহ স্বাস্থ্য ও আয়ুষ দপ্তরের শীর্ষকর্তারা।
নবান্নে হাইভোল্টেজ বৈঠক ও ভেন্যু নির্বাচন
কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের নাম আলোচনায় থাকলেও আপাতত রেড রোড ও সংলগ্ন এলাকাতেই এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচি আয়োজনের পাল্লা ভারী। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই আয়োজন যেন বিশ্বমঞ্চে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
তৈরি হচ্ছে ওয়ার রুম এবং গিনেস বুকের লক্ষ্য
এই মেগা ইভেন্টের সামগ্রিক সমন্বয়ের জন্য ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি’-র ডিরেক্টর ডা. প্রলয় শর্মাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রতিষ্ঠানেই একটি আধুনিক ‘ওয়ার রুম’ গড়ে তোলা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলতে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন অফিস-কাছারিতে শুরু হয়েছে নিয়মিত যোগাভ্যাস।
এই বৃহৎ আয়োজনের মূল কারণ হলো দেশের পূর্বপ্রান্ত থেকে বিশ্বব্যাপী সুস্থতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং যোগচর্চাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কলকাতার বুকে এই আন্তর্জাতিক আয়োজন সফল হলে তা বৈশ্বিক পর্যটন ও সংস্কৃতির মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।