পরকীয়ার নেশায় অন্ধ স্বামীর নির্মমতা, স্ত্রী ও ৩ সন্তানসহ ৬ জনকে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে খুন!

২০০৯ সালের ২৫ এপ্রিল। উত্তরপ্রদেশের লখনউ জেলার গৌরা গ্রামের এক সাধারণ সকাল। সন্তোষী নামের এক গৃহবধূ বাড়ির ভেতর রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিল তার তিন ছোট্ট সন্তান। বাড়ির বাইরেই বসেছিলেন তার স্বামী সর্বন।
ঘটনার সূত্রপাত
রান্নার জন্য নুন আনতে সর্বনকে বলেছিলেন সন্তোষী। কিন্তু সর্বন সে কথায় কর্ণপাত করেননি। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। রাগের মাথায় সন্তোষী হাতের খুন্তি মেঝেতে ফেলে দেন। সেই রাগে সর্বন চিৎকার করে বলে ওঠেন, “আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি,” এবং বেরিয়ে যান। কিন্তু সেই বেরিয়ে যাওয়া যে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শুরু ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি সন্তোষী।
নারকীয় হত্যাকাণ্ড
কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির ভেতর এক পুরুষ ও এক নারীকে ঢুকতে দেখা যায়। ওই নারীর হাতে ছিল একটি ধারালো কুঠার। সে চিৎকার করে বলতে থাকে, “আজ সবাইকে শেষ করে দেব!” সন্তোষী সাহসের সাথে দাঁড়িয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানায়।
বাড়ির ভেতর ঘুমিয়ে থাকা শিশুরা চিৎকার শুনে জেগে ওঠে। ৬ বছরের ছেলে রামরূপ মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে, ওই আততায়ী তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এরপর সন্তোষীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কুঠার দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাত করতে থাকে। মা ও শিশুদের আর্তনাদে এলাকা কেঁপে ওঠে। সন্তোষী ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারান।
নির্মম ওই নারী এখানেই থামেনি। একে একে সে ৬ বছরের রামরূপ, ৪ বছরের মেয়ে সুমিরন এবং দেড় বছরের কোলের শিশু রবিকেও হত্যা করে।
প্রতিবেশীদের ওপর হামলা
বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির মাধুরী নামের এক নারী সাহায্য করতে ছুটে আসেন। কিন্তু আততায়ী তাকেও ছাড়েনি। মাধুরীকে কুঠার দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ভয়ে পালানোর সময় মাধুরীর ছোট সন্তানকেও তারা রেহাই দেয়নি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা গ্রাম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।
তদন্তে বেরিয়ে এল ভয়ংকর সত্য
মাধুরীর মেয়ে সঙ্গীতা দ্রুত পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনের দেহ এবং গুরুতর আহত এক শিশুকে উদ্ধার করে। পুলিশ সাথে সাথেই সর্বনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের ঘটনা মনে হলেও, পুলিশি জেরায় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্তে জানা যায়, সর্বনের সাথে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী (ভ্রাতৃবধূ) সুমনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সন্তোষী এই সম্পর্কের প্রবল বিরোধী ছিলেন। সেই বাধা দূর করতেই সর্বন ও সুমন মিলে পুরো হত্যার ছক কষেছিল। ওইদিন কুঠার হাতে যে নারী নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, সে আর কেউ নয়, সর্বনের প্রেমিকা সুমনই ছিল।
আদালতের ঐতিহাসিক রায়
দীর্ঘ নয় বছর বিচার চলার পর আদালত এই মামলায় চাঞ্চল্যকর রায় দেয়। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী স্বামী সর্বনকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং এই নৃশংস কাজে সরাসরি সাহায্যকারী ভ্রাতৃবধূ সুমনকে দীর্ঘ কারাদণ্ড প্রদান করে।