তৃণমূলের দুর্দিনে কংগ্রেসে ঘরওয়াপসি মমতার? সঞ্জয় রাউতের ইঙ্গিতে শোরগোল জাতীয় রাজনীতিতে

তৃণমূলের দুর্দিনে কংগ্রেসে ঘরওয়াপসি মমতার? সঞ্জয় রাউতের ইঙ্গিতে শোরগোল জাতীয় রাজনীতিতে

নয়াদিল্লি, ১০ জুন ২০২৬: দীর্ঘ ২৯ বছর পর কি ফের কংগ্রেসের হাত ধরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এই নতুন জল্পনা। লোকসভায় দলের অন্দরে বিদ্রোহ এবং বাংলায় সংগঠন ভাঙার মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসের সঙ্গে ঘরওয়াপসির সম্ভাবনা এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।

কেন এই জল্পনা? সম্প্রতি দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা বৈঠক কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে। মমতা-সনিয়া গান্ধীর দীর্ঘ একান্ত বৈঠক এবং অভিষেক-রাহুল বৈঠকের পরেই এই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। এর ওপর ঘি ঢেলেছেন শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেছেন, “টিএমসি, এনসিপি এবং কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলোর উচিত মূল দলে ফিরে আসা।” রাউতের মতে, বিজেপির মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী কংগ্রেসই একমাত্র পথ।

তৃণমূলের ভাঙন ও মমতা গত ৪ মে-এর নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূলের ছবিটা পুরোপুরি বদলে গেছে। নিজের গড়ে তোলা দলের ওপর থেকে কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন নেত্রী। দলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জনই এখন বিদ্রোহী শিবিরে। একদিকে বিধায়কদের একাংশ ও অন্যদিকে সাংসদদের বিদ্রোহী মনোভাব—সব মিলিয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতি থেকে দলকে বাঁচাতে এবং নিজে জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে কংগ্রেসের সাথে তৃণমূলকে মিশিয়ে দেওয়া ছাড়া মমতার সামনে এখন বিশেষ কোনো বিকল্প খোলা নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক সমীকরণ ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা। পনেরো বছর বাংলার ক্ষমতায় থাকার পর এখন দল ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি কি সত্যিই আবার ‘পুরানো ঘরে’ ফিরবেন? কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে গিয়ে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাইছেন মমতা? উত্তর যাই হোক না কেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ যে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষা নাকি কংগ্রেসের হাত ধরে টিকে থাকা—এই মুহূর্তে এটাই বাংলার রাজনীতির কোটি টাকার প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *