দশ বছরে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যের অনন্য মাইলফলক পার করল পিএমএসএমএ
ভারতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় গত এক দশকে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক অভাবনীয় রূপান্তর ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান বা পিএমএসএমএ-র দশ বছর পূর্তিতে এই কর্মসূচিকে দেশের লক্ষ লক্ষ মায়ের জীবন রক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সালের ৯ জুন যাত্রা শুরু করা এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে প্রতি মাসের ৯ তারিখে বিনামূল্যে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করা। গর্ভাবস্থার নয় মাসের যাত্রাপথকে নিরাপদ করে তোলাই এই কর্মসূচির মূল মন্ত্র।
সুরক্ষিত মাতৃত্বের নতুন দিগন্ত
পিএমএসএমএ কেবল নিয়মিত চেক-আপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি জটিল গর্ভাবস্থা শনাক্তকরণ ও তার চিকিৎসায় এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিহ্নিত করা হয় এবং প্রসবের পরবর্তী ৪৫ দিন পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিশ্চিত করা হয়। একটি নিবেদিত পোর্টালের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি ও কাজের দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭.৫ কোটিরও বেশি প্রসবপূর্ব চেক-আপ সম্পন্ন হয়েছে এবং ১.১৭ কোটির বেশি অতি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা সফলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
মৃত্যুহার হ্রাসে সাফল্যের ছাপ
এই সমন্বিত প্রচেষ্টার সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের স্বাস্থ্য সূচকে। সাম্প্রতিক স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুহার বা মেটার্নাল মর্টালিটি রেশিও প্রতি ১ লক্ষ প্রসবে কমে ৮৭-তে নেমে এসেছে। প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং নবজাতকের নিরাপদ আগমন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে পিএমএসএমএ যেভাবে কাজ করে চলেছে, তা ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সদিচ্ছা ও সাফল্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে উঠেছে।