আমাকে বাঁচান স্যর, আমি পড়তে চাই! চিরকুট লিখে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল মালদার কিশোরী
নিজে বাঁচতে এবং নিজের স্বপ্নকে সত্যি করতে এক সাহসী লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল মালদার হবিবপুর। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর অদম্য সাহসের জোরে ১৬ বছর বয়সী দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নিজের বিয়ে রুখে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাবার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে পরিবার যখন তার মতের তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিল, তখন ওই কিশোরী হার না মেনে বেছে নেয় প্রতিবাদের পথ।
চিরকুটেই বদলাল ভবিতব্য
পরিবারের চাপে প্রায় এক সপ্তাহ গৃহবন্দি থাকার পর যখন বিয়ে চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখন নিজের বাঁচার শেষ পথ হিসেবে বন্ধুকে মাধ্যম করে স্কুলের শিক্ষকদের কাছে গোপনে একটি চিরকুট পাঠায় ওই ছাত্রী। তাতে লেখা ছিল, ‘আমাকে বাঁচান স্যর, আমি পড়তে চাই।’ এই একটি লাইনই বদলে দেয় পরিস্থিতি। চিরকুট পাওয়ার পরই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়দেব লাহিড়ীসহ পাঁচ শিক্ষক সরাসরি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। তারা পরিবারকে আইনত বাল্যবিবাহের কুফল এবং এর পরিণাম সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করেন। শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ভুল বুঝতে পেরে বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে পরিবার।
শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন
এই সাহসিকতার ফলস্বরূপ ওই কিশোরী আজ আবার স্কুলে ফিরেছে। সে এখন গ্রামের অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম। নিজেকে গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ওই ছাত্রী জানিয়েছে, বড় হয়ে সে শিক্ষক হতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে গ্রামের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষিত করে তুলতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী তার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছে। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক জোয়েল মুর্মু ছাত্রীর এই সচেতনতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কিশোরীর এই জয় প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে আওয়াজ তুললে সামাজিক কুসংস্কারের শেকল ভাঙা সম্ভব। সোমবার থেকে সে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে নিজের ক্লাসে যোগ দিয়েছে।