মেয়াদোত্তীর্ণ এলপিজি সিলিন্ডারে লুকিয়ে বড় বিপদ, ডেলিভারি নেওয়ার আগে মিলিয়ে নিন এই গোপন কোড!

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হলো এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। তবে ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক বোতল বা ওষুধের মতো এই গ্যাস সিলিন্ডারেরও যে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ বা ‘এক্সপায়ারি ডেট’ রয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সাধারণত বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার এলে ওজন বা সেফটি সিল পরীক্ষা করেই আমরা খালাস হয়ে যাই। কিন্তু এই অসচেতনতাই ডেকে আনতে পারে সিলিন্ডার লিক, অগ্নিকাণ্ড বা ভয়াবহ বিস্ফোরণের মতো মারাত্মক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। তাই সিলিন্ডার নেওয়ার সময় এর মেয়াদ যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
লুকিয়ে থাকা গোপন কোডের রহস্য
গ্যাস সিলিন্ডারের হ্যান্ডেলবার প্লেট বা ওপরের লোহার রিংটিকে ধরে রাখা ‘স্টে প্লেট’-এর ভেতরের দিকে একটি বিশেষ কোড লেখা থাকে। এই কোডটির মাধ্যমেই সিলিন্ডারটির আইনি বৈধতা ও মেয়াদ শেষের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়। কোডটি মূলত ইংরেজি বর্ণ ‘A, B, C, D’ এবং এর সাথে দুটি সংখ্যার সমন্বয়ে গঠিত হয়।
এখানে ইংরেজি বর্ণগুলো দিয়ে বছরের বারোটি মাসকে চার ভাগে ভাগ করে বোঝানো হয়। যেমন—‘A’ বলতে জানুয়ারি থেকে মার্চ, ‘B’ বলতে এপ্রিল থেকে জুন, ‘C’ বলতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এবং ‘D’ বলতে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসকে নির্দেশ করে। আর বর্ণের পাশে থাকা সংখ্যা দুটি দিয়ে বছরটিকে বোঝানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সিলিন্ডারে যদি ‘B26’ লেখা থাকে, তবে বুঝতে হবে সেটির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত। চলতি মাসের সাথে এই কোড না মিললে বা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে গ্রাহকের অধিকার রয়েছে সেই সিলিন্ডারটি ফেরত দেওয়ার।
ঝুঁকি ও আইনি সুরক্ষা
একটি গ্যাস সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ আয়ু সাধারণত ১৫ বছর হয়ে থাকে। এই দীর্ঘ সময়ে সিলিন্ডারগুলোকে কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার প্রথমটি হয় উৎপাদনের ৫ বছর পর এবং দ্বিতীয়টি ১০ বছর পর। পরীক্ষায় কোনো রকম ত্রুটি ধরা পড়লে সিলিন্ডারটি সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়।
তা সত্ত্বেও শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গ্রাহকদের সচেতনতা জরুরি। মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহারে ভেতরের অতিরিক্ত চাপের কারণে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসাবধানতার কারণে শুধু যে সম্পত্তি নষ্ট হয় তা নয়, মুহূর্তের মধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই সুরক্ষার স্বার্থে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া সিলিন্ডার সরবরাহ করা হলে গ্রাহক তা নিতে অস্বীকার করতে পারেন এবং গ্যাস কো ম্পা নি নিয়ম অনুযায়ী সেটি বদলে দিতে বাধ্য থাকে।