রাজ্যসভায় জোড়া পদত্যাগে মমতার অস্বস্তি, ৫৮ থেকে ৬৪ বিধায়ক বাড়িয়ে বড় ‘খেলা’র ইঙ্গিত ঋতব্রতর

রাজ্যসভায় জোড়া পদত্যাগে মমতার অস্বস্তি, ৫৮ থেকে ৬৪ বিধায়ক বাড়িয়ে বড় ‘খেলা’র ইঙ্গিত ঋতব্রতর

লোকসভা এবং রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন অব্যাহত রেখে সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। এই জোড়া ইস্তফাকে কেন্দ্র করে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও নীতিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা তথা নতুন তৃণমূলের প্রধান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পদত্যাগের এই ধারা আগামী দিনেও জারি থাকবে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের একনায়কতন্ত্র ও জমিদারি মানসিকতার কারণেই এই বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও নেতৃত্বের রাশ আলগা হওয়ার কারণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকা এবং নির্দিষ্ট কিছু নেতার একচ্ছত্র আধিপত্যই এই গণ-অসন্তোষের মূল কারণ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিগত ১৫ মাস ধরে রাজ্যসভার সাংসদদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই পুরো টিম পরিচালিত হতো। এই সাংগঠনিক রদবদল এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের জেরেই সুস্মিতা দেবের মতো হেভিওয়েট নেত্রীরা দল ছাড়ছেন। মূল দলের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর রাশ যে আলগা হয়ে গেছে, এই জোড়া পদত্যাগ তারই বড় প্রমাণ।

বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চাপ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই সবচেয়ে বড় চমক এসেছে বিধায়ক সংখ্যার দাবিতে। এর আগে ঋতব্রতর নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়ক মূল দল থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন, যা বর্তমানে বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই নতুন সমীকরণ নবান্ন ও কালীঘাটের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। নিজেদের গোষ্ঠীকে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে ঋতব্রত স্পষ্ট করেছেন যে তাঁরা এখনই অন্য কোনো দলে মিশছেন না। এর ফলে বিধানসভা ও লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাতেও শাসক শিবিরের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতছাড়া হওয়ার মুখে পড়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের আইনসভায় বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *