মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা, তেহরানে আমেরিকার হামলা!

গত সাড়ে তিন মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হলো। ওমান উপকূলে একটি মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকার সেনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে টহলরত ওই সামরিক হেলিকপ্টারটি ইরান গুলি করে নামিয়েছে। দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরানে হামলার নির্দেশ দেন তিনি।
হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি দাবি
সোমবার হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের বিনা উস্কানিতে চালানো আগ্রাসনের যথাযথ জবাব দেওয়া হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ইরানের বেশ কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মার্কিন এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেনি, বরং তেহরানে হামলার একটি অজুহাত হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযোগ ব্যবহার করছে। এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
তেল সংকট ও শান্তি প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। বর্তমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে বড় ধরনের তেল সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট নিরসনে যখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই নতুন করে এই হামলা শান্তি আলোচনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চেইন ভেঙে পড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।