Gen Z-কে দেশবিরোধী তকমা নয়, ছাত্রদের বিক্ষোভে নমনীয় বিজেপি!

দেশজুড়ে একের পর এক পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়ন কেলেঙ্কারি এবং বেকারত্বের প্রতিবাদে দিল্লিতে ফুঁসে উঠেছে তরুণ প্রজন্ম। আত্মপ্রকাশ ঘটা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে এই বিশাল ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে, তখন শাসকদল বিজেপির শীর্ষ মহলে এক লক্ষণীয় নমনীয় মনোভাব দেখা যাচ্ছে। এনইইটি (NEET-UG) ও সিবিএসই পরীক্ষার ত্রুটির জেরে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়ের মাঝেই সরকার স্পষ্ট করেছে, অধিকারের দাবিতে সোচ্চার এই প্রজন্মকে কোনোভাবেই ‘বদনাম’ করা যাবে না।
তারুণ্যের শক্তিকে স্বীকার করছে শাসকদল
বিজেপির প্রবীণ নেতারা বর্তমান ‘জেন জি’ (Gen Z) বা তরুণদের এই বিক্ষোভকে গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, স্টার্ট-আপ বিপ্লব ঘটানো এই যুবসমাজ এক অপ্রতিরোধ্য শক্তির অধিকারী। তাদের ক্ষোভকে নিছক ‘সরকার-বিরোধী’ তকমা না দিয়ে বরং গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার কথা বলছেন তারা। আন্দোলনকারী সংগঠনের নির্দিষ্ট কোনো সাংগঠনিক কাঠামো না থাকায় সরাসরি আলোচনায় বসতে নারাজ সরকার, তবে সমস্যার মূলে থাকা সিস্টেমের ফাঁকফোকরগুলি দ্রুত মেরামত করার বিষয়ে তারা যথেষ্ট তৎপর।
পদ্ধতিগত ত্রুটি ও ২০২৬-এর রাজনীতি
মূলত প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবই এই তীব্র ছাত্র অসন্তোষের প্রধান কারণ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ছাত্র আন্দোলনের জেরে সরকার পতনের সাম্প্রতিক নজির থাকলেও, ভারতীয় যুবকদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক মূল্যবোধের কারণে ভারতে তেমন কিছুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তা সত্ত্বেও, ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ সমাজের এই ক্ষোভ অত্যন্ত সংবেদনশীল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যার ফলে আন্দোলন দমনের পরিবর্তে তাদের আস্থা অর্জন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানই এখন বিজেপির প্রধান কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।