কৃষ্ণনগরে ত্রাণ পাচারের অভিযোগ! প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে ঘিরে ডিম-হামলা ও বিক্ষোভ

বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এবার সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কৃষ্ণনগরের কাঠুরিয়াপাড়া এলাকা। মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রবীণ নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ত্রাণ সরানোর অভিযোগ ওঠে, যা ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘাত এবং প্রাক্তন মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।
ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার ও রণক্ষেত্র পরিস্থিতি
সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছেন তিনবারের বিধায়ক ও দীর্ঘ ১৫ বছরের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন দুপুরে তাঁর বাড়ির বাইরে একটি গাড়িতে সরকারি ত্রিপল, শাড়ি ও ধুতি বোঝাই করতে দেখেন স্থানীয়রা। বেআইনিভাবে সরকারি ত্রাণ অন্যত্র সরানো হচ্ছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি কর্মীরা ছুটে এসে বাড়ি ঘেরাও করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, প্রবীণ এই নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে এক স্থানীয় শিক্ষিকাও বিক্ষুব্ধ জনতার হেনস্থার শিকার হন।
প্রাক্তন মন্ত্রীর সাফাই এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব
বেগতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে উজ্জ্বল বিশ্বাসের দাবি, ভোটের আচরণবিধির কারণে ঈদের আগে আসা এই ত্রাণ সামগ্রী বিলি করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি তিনি আগেই জেলাশাসককে জানিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের ওপর জনরোষ এবং ডিম ছোঁড়ার মতো ঘটনাগুলি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষ্ণনগরের এই ঘটনাটি শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে নতুন করে যথেষ্ট আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, যা আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ত্রাণ সামগ্রী সরানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।