দিল্লির অফিসও হাতছাড়া মমতার! পার্থর বাড়ি নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা, “ও শতাব্দী-কাকলিকে নিয়ে থাকুক”

দিল্লির অফিসও হাতছাড়া মমতার! পার্থর বাড়ি নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা, “ও শতাব্দী-কাকলিকে নিয়ে থাকুক”

নয়াদিল্লি: কলকাতার পর এবার দিল্লির পার্টি অফিসও কি হাতছাড়া হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? শাসকদলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ এবার পৌঁছাল দিল্লিতেও। ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বরাদ্দ সরকারি বাংলোতেই এতদিন চলত তৃণমূলের দলীয় কাজকর্ম। কিন্তু এখন পার্থ ভৌমিক বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগ দেওয়ায়, সেই অফিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

কেন এই সংকট?

  • রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সরকারি বাংলোটি এতদিন তৃণমূলের দিল্লির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভার দলনেতা হওয়ার পর থেকে এই বাংলোটিই ছিল দলীয় বৈঠকের মূল কেন্দ্র।
  • কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলে পার্থ ভৌমিক এখন কাকলি ঘোষ দস্তিদার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী ব্লকের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে এই আবাসনটি তিনি কি আর দলের ব্যবহারের জন্য ছাড়বেন? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?

এদিন পার্থ ভৌমিকের বাড়ি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ শোরগোল ফেলা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “পার্থর নামে বাড়ি ছিল না। আমি হাউজিং কমিটির সদস্য হিসেবে রিকোয়েস্ট করে বাড়িটা ওকে করিয়ে দিয়েছিলাম। এখন বাড়িটা ওর নামে। ও যা খুশি করুক। পার্থ বরং মহান নেত্রী শতাব্দী রায় আর কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে ওখানে বসে বসে কাজ করুক।”

তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়ছে:

এরই মধ্যে কলকাতার পার্টি অফিস নিয়েও টালবাহানা চলছে। বাড়ির মালিক মন্টু সাহা তৃণমূল ভবন হিসেবে ভাড়া দিতে অনিচ্ছুক বলে খবর। তার ওপর দিল্লির এই বাংলো হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পার্থ ভৌমিক নিজের জন্য বরাদ্দ এই বাড়িটি কি ফেরত চাইবেন? নাকি বিদ্রোহী শিবির সেখানেই তাদের নতুন রণকৌশল তৈরি করবে? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের লোগো থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয়—সবকিছুই একে একে হাতছাড়া হওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় ধাক্কা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *