আইভিএফ-এর চরম গাফিলতি! যমজ সন্তানের সঙ্গে মিলল না বাবা-মায়ের ডিএনএ, হাসপাতালে তোলপাড়

রাজধানী দিল্লির দ্বারকায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। আইভিএফ (IVF) পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া যমজ কন্যাসন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার রিপোর্ট মিলল না! এই ঘটনায় রীতিমতো স্তব্ধ চিকিৎসা মহলের একাংশ, আর ভেঙে পড়েছে ওই দম্পতি। গত ৫ মাস ধরে নিজের আসল সন্তানদের খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তাঁরা।
কীভাবে শুরু হলো এই রহস্য?
দিল্লির মোহন গার্ডেনের বাসিন্দা রাহুল ও তাঁর স্ত্রী সন্তান লাভের আশায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেটার কৈলাসের এক নামী আইভিএফ সেন্টারের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেছিলেন যে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় কেবল রাহুলের শুক্রাণু ও তাঁর স্ত্রীর ডিম্বাণু ব্যবহার করা হবে। জানুয়ারি ২০২৬-এ দ্বারকার এক বেসরকারি হাসপাতালে ওই দম্পতির যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
সন্দেহ থেকে ডিএনএ টেস্ট:
শিশুদের জন্মের পর পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। শিশুদের মুখাবয়ব বা শারীরিক গঠনের সঙ্গে বাবা-মায়ের কোনো মিলই ছিল না। সন্দেহ দূর করতে দম্পতি দুটি পৃথক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষা করান। রিপোর্ট দেখে তাঁদের পায়ের তলার মাটি সরে যায়—দুই শিশুর ডিএনএ-র সঙ্গে বাবা-মায়ের ডিএনএ-র মিল ০ শতাংশ! অর্থাৎ, এই শিশুরা জৈবিকভাবে তাঁদের সন্তান নয়।
হাসপাতালের ভূমিকা ও অভিযোগ:
দম্পতি যখন আইভিএফ সেন্টার ও ওই বেসরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন, তখন কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করা তো দূরের কথা, উল্টে ওই দম্পতিকেই নানাভাবে অভিযুক্ত করতে শুরু করে। দীর্ঘ তিন মাস কোনো পুলিশি সাহায্য না পাওয়ায় তাঁরা দিল্লির সাকেত আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে অবশেষে পুলিশ এফআইআর (FIR) দায়ের করতে বাধ্য হয়েছে।
রাহুলের আবেগঘন আবেদন:
রাহুল জানিয়েছেন, “আমাদের ইতিমধ্যে দুটি মেয়ে আছে, এই যমজ সন্তানদেরও আমরা প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। কিন্তু আমাদের আসল সন্তানদের কী হলো? আইভিএফ ল্যাবে কি ভ্রূণ বদলে দেওয়া হয়েছে, নাকি জন্মের পর হাসপাতালে অদলবদল হয়েছে? এর জবাব চাই।”
রাহুল সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় আবেদন জানিয়েছেন, “জানুয়ারি ২০২৬-এ ওই হাসপাতালে যাঁদের সন্তান জন্ম নিয়েছে, তাঁরা দয়া করে একবার ডিএনএ পরীক্ষা করান।” এই গাফিলতির পিছনে কোনো বড় মেডিকেল র্যাকেট সক্রিয় কি না, তা নিয়ে এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ওই দম্পতি।