মুড়িগঙ্গার বুকে সেতু নির্মাণের জট কাটল, রাজ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা লগ্নির প্রস্তাব!

মুড়িগঙ্গার বুকে সেতু নির্মাণের জট কাটল, রাজ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা লগ্নির প্রস্তাব!

মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর প্রস্তাবিত বহুপ্রতীক্ষিত সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া জটিলতা অবশেষে কাটল। আগের সরকারের সদিচ্ছার অভাবে কেন্দ্রীয় অনুমতি না মেলায় যে প্রকল্পটি থমকে ছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ ও জাতীয় জলপথ মন্ত্রকের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুড়িগঙ্গা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি ও গুরুত্ব

কাকদ্বীপের লট নম্বর আট এবং সাগরের কচুবেড়িয়ার মাঝে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণের জন্য আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুড়িগঙ্গা নদী জাতীয় জলপথের অংশ হওয়ায় এতদিন এই কাজে কেন্দ্রীয় অনুমতির খামতি ছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের তৎপরতায় সেই বাধা দূর হয়েছে। শুধু সড়ক যোগাযোগই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাগরদ্বীপকে রেলপথের আওতায় আনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দ্বীপবাসীর যাতায়াত ও বাণিজ্যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

লরসেন অ্যান্ড টুব্রোর বড় অঙ্কের লগ্নির প্রস্তাব

সেতু প্রকল্পের পাশাপাশি পরিকাঠামো নির্মাণ সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এল অ্যান্ড টি)-র শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও ইতিমধ্যে ফলপ্রসূ বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা বিমানবন্দরে আয়োজিত এক বৈঠকে রাজ্যে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের রূপরেখা পেশ করেছে সংস্থাটি। এই বিশাল লগ্নির মধ্যে রয়েছে নিউটাউনে তথ্যপ্রযুক্তি পার্কের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ, শহরতলির যানজট কমাতে রাস্তা সম্প্রসারণ, উড়ালপুল নির্মাণ এবং রিং রোড তৈরির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত প্রকল্প।

অতীতে জমি অধিগ্রহণ শিল্পের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ালেও, নতুন সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি ও মসৃণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ শিল্পমহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে এই ধরনের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের অর্থনৈতিক গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক শিল্পোন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *