গভীর রাতে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলা! প্রাণ গেল ১১ শিশুর

আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের বর্বরোচিত এয়ার স্ট্রাইক! গভীর রাতে কুনার, খোস্ত এবং পাটিকা প্রদেশে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তালিবান সরকার। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী।
আক্রমণের ভয়াবহতা:
- শিশুদের মৃত্যু: তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাহিবুল্লাহ মুজাহিদের দাবি অনুযায়ী, নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনই শিশু। এছাড়া এক বৃদ্ধ ও এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে।
- আহত: হামলায় ১৪ জন মহিলা গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন, যারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- নিশানা: কুনার, খোস্ত এবং পাটিকা প্রদেশের বিভিন্ন জনবসতি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুরানো শত্রুতা, নতুন উত্তেজনা:
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এই সংঘাত নতুন কিছু নয়। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করেছে যে, তালিবান সরকার তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং বালোচ লিবারেশন আর্মিকে আশ্রয় দিচ্ছে, যার জেরে তারা পাকিস্তানে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। পাল্টা হিসেবে আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তান নিয়মিত এমন হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ কাবুলের। গত মার্চ মাসেই কাবুলের একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাক হামলায় ২৬৯ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের গর্জন:
এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে ভারতও। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী দূত হরিশ পর্বতানেনি সাফ জানিয়েছেন, জঙ্গি দমনের নামে আফগানিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছে পাকিস্তান। শেহবাজ শরিফের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ভারত জানায়, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই তারা ধর্ম ও সন্ত্রাসের জিগির তুলে আফগান মুলুকে আক্রমণ চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে এই বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তিগুলিকে ‘ভারত-সমর্থিত’ বলে দাবি করলেও, ভারত সেই অপপ্রচারকে কড়া ভাষায় নাকচ করেছে। সব মিলিয়ে, এই নতুন বিমান হামলা দুই দেশের সীমান্ত সংঘাতকে আরও এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল।