জনসংখ্যা বিস্ফোরণ থেকে নিম্ন জন্মহার! ভারতে কি আসছে ‘চিন-জাপান’ সংকট? ইলন মাস্কের মন্তব্যে শোরগোল
একসময় যে দেশে পরিবার পরিকল্পনার মূলমন্ত্র ছিল ‘হাম দো, হামারে দো’, সেই ভারত আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি। জনসংখ্যা-বিস্ফোরণ নিয়ে কয়েক দশক ধরে চলা উদ্বেগের মাঝেই এল নতুন তথ্য—ভারতে দ্রুত কমছে শিশু জন্মের হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট বা টিএফআর)। এই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ঢেউ তুলেছেন খোদ ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এখন নেটপাড়ায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
কী বললেন ইলন মাস্ক?
সম্প্রতি এক পোস্টে মাস্ক মন্তব্য করেছেন, ভারতের জন্মহার এখন ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর নিচে নেমে গিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রবণতা যে ভয়াবহ, তা-ও তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বের জনবহুল দেশ ভারত কি তবে ধীরে ধীরে জনশূন্যতার পথে এগোচ্ছে?
পরিসংখ্যান কী বলছে?
জনসংখ্যাবিদদের মতে, দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে টিএফআর ২.১ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- ভারতের টিএফআর এখন ১.৯।
- এক দশক আগেও এই হার ছিল ২.৩।
- সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ১.৪-এ।
- তালিকায় সবার নিচে রয়েছে রাজধানী দিল্লি (১.২)।
- তবে এখনও বিহার (২.৭), উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডের (২.২) জন্মহার দেশের গড়ের তুলনায় বেশি।
কেন এই পতন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ। উন্নত শিক্ষা, মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, দেরিতে বিয়ে, সন্তান প্রতিপালনের আকাশছোঁয়া খরচ এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা—এই সবকিছুর মিশেলেই টিএফআর কমেছে।
আসছে কোন বিপদ?
অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, এই পতন যদি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মের অভাব দেখা দেবে। যা চিনের মতো দেশ ইতিমধ্যেই ভুগছে।
- অর্থনৈতিক ঝুঁকি: তরুণ প্রজন্ম কমলে উৎপাদন ক্ষমতা, কর আদায় এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা আসতে পারে।
- প্রবীণদের দেখভালের সংকট: জাপানের মতো দেশগুলির মতো প্রবীণ নাগরিকদের দেখভালের জন্য লোক পাওয়া কঠিন হতে পারে।
স্কুল বন্ধের হিড়িক!
জন্মহার কমে যাওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাতেও। ‘ইউ-ডাইস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সারা দেশে প্রায় ৬১ হাজার সরকারি স্কুল পড়ুয়ার অভাবে বন্ধের মুখে। এ রাজ্যেও ছবিটা একই—প্রায় ৮ হাজার সরকারি স্কুল ছাত্রছাত্রীর অভাবে ধুঁকছে।
জনসংখ্যা কমলে হয়তো স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর চাপ কিছুটা কমবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভারত এক নতুন ‘ডেমোগ্রাফিক ক্রাইসিস’-এর দিকে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।