অনলাইন ইন্টারভিউয়ে নতুন ফাঁদ! AI ব্যবহার করে বায়োমেট্রিক তথ্য চুরি, সতর্কবার্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

অনলাইন ইন্টারভিউয়ে নতুন ফাঁদ! AI ব্যবহার করে বায়োমেট্রিক তথ্য চুরি, সতর্কবার্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

ওয়েবডেস্ক: বর্তমান ডিজিটাল যুগে চাকরির ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে অনবোর্ডিং—সবকিছুই এখন অনলাইন-নির্ভর। কিন্তু এই সুযোগেরই অপব্যবহার করছে সাইবার প্রতারকরা। অনলাইনে ভুয়ো চাকরির ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে এখন চাকরিপ্রার্থীদের বায়োমেট্রিক তথ্য চুরি করা হচ্ছে বলে সতর্ক করল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)।

কীভাবে ফাঁদে ফেলছে প্রতারকরা? সাইবার অপরাধীরা বড় কোনো সংস্থার নাম ব্যবহার করে অনলাইনে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এরপর একাধিক স্ক্রিনিং রাউন্ড বা ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রার্থীর বিশ্বাস অর্জন করছে। সবকিছু এতটাই পেশাদারভাবে সাজানো হচ্ছে যে, প্রযুক্তি সচেতন ব্যক্তিরাও সহজে বুঝতে পারছেন না এটি কোনো জালিয়াতির ছক।

ঝুঁকি কোথায়? সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপটি হলো ‘ডেটা ভেরিফিকেশন’। ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে প্রার্থীর মুখের বিভিন্ন ভঙ্গি (ফেশিয়াল এক্সপ্রেশন), চোখের স্ক্যান এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর AI (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার করে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হচ্ছে ডিজিটাল ডেটা ব্যাঙ্ক। এই তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট, সরকারি পরিচয়পত্রের সাথে লিঙ্ক করা পরিষেবা এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও হ্যাক করে সর্বস্বান্ত করতে পারে।

সতর্ক থাকতে যা করবেন: ১. বায়োমেট্রিক চেক: কোনো সংস্থা যদি ভিডিয়ো কলে চোখের স্ক্যান বা বায়োমেট্রিক তথ্য নিতে চায়, তবে এখনই সাবধান হন। ২. চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নয়: ‘খুব দ্রুত নিয়োগ হবে’ বা ‘এখনই ভেরিফিকেশন করুন’—এমন তাড়া দিলে সেই সংস্থা সম্পর্কে বাড়তি সতর্ক থাকুন। ৩. ইমেল আইডি যাচাই: কোনো কর্পোরেট ওয়েবসাইটের বদলে ব্যক্তিগত Gmail অ্যাকাউন্ট থেকে মেইল আসলে সতর্ক হন। ৪. অর্থ লেনদেন: রেজিস্ট্রেশন ফি বা ল্যাপটপ ডেলিভারির নামে টাকা চাইলে সাবধান। কোনো বৈধ সংস্থা সাধারণত এ ধরনের অর্থ দাবি করে না।

প্রতারণার শিকার হলে করণীয়: যদি মনে হয় আপনার বায়োমেট্রিক বা আর্থিক তথ্য চুরি হয়েছে, তবে ঘটনাটি ঘটার ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

  • অবিলম্বে ১৯৩০ (1930) নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানান।
  • ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত জালিয়াতি হলে cybercrime.gov.in পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করুন।
  • কোনো মেসেজ, ভিডিয়ো কলের রেকর্ড, স্ক্রিনশট বা ভুয়ো অফার লেটার পেলে তা ডিলিট করবেন না; এগুলো ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সাইবার অপরাধের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তাই চাকরির সুযোগ যতই আকর্ষণীয় মনে হোক না কেন, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে অতিরিক্ত সতর্কতা এবং সচেতনতাই আপনাকে এই ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *