সুখেন্দুর পর সুস্মিতা! এক সপ্তাহের ব্যবধানে জোড়া ধাক্কা তৃণমূল শিবিরে, রাজ্যসভা ছাড়লেন সাংসদ

সুখেন্দুর পর সুস্মিতা! এক সপ্তাহের ব্যবধানে জোড়া ধাক্কা তৃণমূল শিবিরে, রাজ্যসভা ছাড়লেন সাংসদ

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে! দলের প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায়, বুধবার রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ সুস্মিতা দেব। একের পর এক বিশ্বস্ত সহযোগীর দল ছাড়ার ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে এখন অস্বস্তির পারদ তুঙ্গে।

তৃণমূলে কেন এই ভাঙন?

রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এমনিতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ৬১ জন বিধায়কের দাঁড়ানো নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোণঠাসা। এবার সংসদের অন্দরেও সেই ফাটল স্পষ্ট হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে—তৃণমূলের রাশ কি তবে আলগা হয়ে যাচ্ছে?

সুস্মিতার ইস্তফায় বড় ধাক্কা:

  • অল্প সময়ে উত্থান: ২০১৯ সালে কংগ্রেসের টিকিটে শিলচর থেকে লড়ে পরাজিত হওয়ার পর ২০২১ সালে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন সুস্মিতা দেব। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
  • গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: উত্তর-পূর্বে তৃণমূলের বিস্তার এবং জাতীয় রাজনীতিতে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিহার্য।
  • সংসদীয় সংকটে নেতৃত্ব: এক সপ্তাহের ব্যবধানে দলের দুই হেভিওয়েট নেতার প্রস্থান, তৃণমূলের সংসদীয় দলের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি করে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুস্মিতা দেবের মতো একজন জাতীয় স্তরের নেত্রীর পদত্যাগ কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এক গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদদের প্রস্থান আগামী দিনে তৃণমূলের জন্য কতটা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *