পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তের হোলি! ৪ নেতার মাথার দাম ১ কোটি ঘোষণা পাক সেনার, চরম উত্তেজনা
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: বিক্ষোভ দমনে নগ্নতা! পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) সাধারণ নাগরিকদের উপর পাক সেনার নির্বিচার গুলিবর্ষণে উত্তপ্ত গোটা উপত্যকা। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অপরাধে অন্তত ৩০ জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে। গণহত্যার মতো এই ঘটনার পর এবার বন্দুকের নলে কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪ নেতার মাথার দাম ১ কোটি টাকা করে ঘোষণা করল পাক প্রশাসন।
কেন এই কঠোর দমননীতি?
আগামী ২৭ জুলাই অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন হতে চলেছে। এই নির্বাচনের ফল সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেভাগেই কোমর বেঁধে নেমেছে পাক সেনা। নাগরিক সমাজের জোট ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই মঙ্গলবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল জেএএসি। বিক্ষোভ চলাকালীনই সেনার এলোপাথাড়ি গুলিতে এক চিকিৎসক ও এক মহিলা-সহ অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়, আহত প্রায় ২০০ জন।
যাঁদের মাথার দাম ঘোষণা:
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেছে পাক স্বরাষ্ট্রদপ্তর। ওই নেতাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১ কোটি টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত নেতারা হলেন:
- শওকত নওয়াজ মীর
- উমর নাজির কাশ্মীরি
- খাজা মেহরান আরশাদ
- সরদার আমান খান
পরিস্থিতি এখন কেমন?
- ইন্টারনেট বিভ্রাট: বিক্ষোভ দমনে পুরো অধিকৃত কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
- ভূতুড়ে শহর: দোকানপাট সব বন্ধ। রাস্তাঘাটে টহল দিচ্ছে পাক রেঞ্জার্স ও পুলিশ বাহিনী।
- আইনজীবীদের ধর্মঘট: জেএএসি নেতা তথা আইনজীবী আমজাদ আলিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সেখানকার আইনজীবীরাও কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন।
বন্দুকের নলে বিদ্রোহ দমনের এই প্রচেষ্টায় এলাকা এখন আতঙ্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পুরো অঞ্চল কার্যত কার্ফু পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এই দমনপীড়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে।