মমতার ‘রেপ্লিকা’ও এবার বিদ্রোহী! এনডিএ-তে যোগদানের পথে সায়নী? তৃণমূল শিবিরে প্রবল ভূমিকম্প

তৃণমূল শিবিরে একের পর এক বিপর্যয়! সুখেন্দু শেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের পর এবার দলত্যাগী সাংসদদের তালিকায় নাম লেখালেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং যুব তৃণমূলের সভানেত্রী হিসেবে পরিচিত সায়নীর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
যা জানা যাচ্ছে:
- বিদ্রোহী শিবিরে স্বাক্ষর: এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে স্বাক্ষর করেছেন মোট ২০ জন তৃণমূল সাংসদ। সেই তালিকায় নাম রয়েছে সায়নী ঘোষের।
- দিল্লিতে বৈঠক: সোমবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের দীর্ঘ বৈঠক হয়, যার পরেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
- সব হিসাব ওলটপালট: সদ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব তৃণমূলের দায়িত্ব পুনরায় সায়নীকেই দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অভিষেক ও মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। হঠাৎ তার এই ‘বেসুরো’ হওয়ার খবরে হতবাক দলের একাংশ।
মমতার ‘রেপ্লিকা’র এমন পরিণতি?
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই সায়নী ঘোষের উত্থান ছিল দেখার মতো। পরনে সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি—সায়নীকে অনেকেই মমতার ‘রেপ্লিকা’ বলে ডাকতেন। শিবলিঙ্গ সংক্রান্ত বিতর্কিত পোস্ট থেকে শুরু করে বহু বিতর্কেও দল সর্বদা তাঁর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সেই ভরসার মানুষই এবার দলবিরোধী পথে পা বাড়ালেন।
সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেবের পর সায়নী ঘোষের এই বিদ্রোহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে কার্যত ভেঙে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দলের অন্দরে একের পর এক বড় নেতার প্রস্থান ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।