আসছে ‘গডজিলা’ এল নিনো! খরা-তাপদাহের আশঙ্কায় কাঁপছে ভারত; কৃষি থেকে বিদ্যুৎ—সবই কি বিপন্ন?

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া এক শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ ধেয়ে আসছে ভারতের দিকে। বিজ্ঞানীরা একে ‘গডজিলা’ এল নিনো (El Nino)-র তকমা দিয়েছেন। এই প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভারতের দৈনন্দিন জীবন, কৃষি ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই সতর্কতা?
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়। যেহেতু ভারতের কৃষিকাজ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকাংশেই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল, তাই এল নিনোর প্রভাবে ভারতের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামও (WEF) এল নিনোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আগাম হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
কৃষিতে অশনি সংকেত:
ভারতের কোটি কোটি কৃষকের ভরসা মৌসুমি বায়ু। ধান, ডাল, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টার মতো ফসলের জন্য পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত অপরিহার্য। এল নিনোর প্রভাবে যদি বৃষ্টিপাত কমে যায় বা দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে, তবে কৃষকরা বীজ বোনার সময় পিছিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন। এতে ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাজারে ডাল ও শস্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
জল ও বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা:
- জলস্তর হ্রাস: বৃষ্টিপাত কম হলে জলাধার ও নদীতে জলের স্তর নেমে যাবে। এর ফলে পানীয় জল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে।
- বিদ্যুতের চাহিদা: গরম বাড়লে ফ্যান, এসি ও রেফ্রিজারেটরের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যায়। গত মাসেই ভারতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ২৬৫ গিগাওয়াটে পৌঁছেছিল। এল নিনোর ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে, যা বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করবে।
সাপ্লাই চেইনে প্রভাব:
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এল নিনোর প্রভাবে পণ্য সরবরাহ বা সাপ্লাই চেইনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলোতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। ভারতও যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হয়, তবে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়বে।
এল নিনো কেবল প্রশান্ত মহাসাগরের আবহাওয়া সংক্রান্ত কোনো ঘটনা নয়, এটি একটি বড় অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাসও হতে পারে। আগামী মাসগুলোতে এই পরিস্থিতির তীব্রতা কেমন হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল।