লোকসভায় অস্তিত্বহীন মমতা? আজই তৃণমূল ভাঙার চূড়ান্ত সিলমোহর স্পিকারের! বড় বিপদে অভিষেক-মহুয়ারা

নিউজ ডেস্ক: লোকসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব কি এবার সংকটের মুখে? দিল্লির অতি নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, আজ কিংবা কালকের মধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁদের পৃথক ব্লককে সরকারি স্বীকৃতি দিতে চলেছেন। এই স্বীকৃতির অর্থ—সংসদীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়তে পারে।
কেন এই বড় বিপত্তি? দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো দল ভাঙতে হলে মোট সাংসদ সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে অধিকাংশ সাংসদই ইতিমধ্যেই স্পিকারের কাছে পৃথক ‘ব্লক’ তৈরির আবেদন জমা দিয়েছেন। লোকসভার সচিবালয় সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে। স্পিকারের সিলমোহর পড়লেই বিক্ষুব্ধ এই সাংসদরা আইনি বৈধতা পেয়ে যাবেন এবং তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের কোনো ভয় আর থাকবে না।
মমতা-অভিষেক শিবিরের বড় ক্ষতি: স্পিকারের এই স্বীকৃতির ফলে সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের মূল নেতৃত্বের সামনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে:
- দলীয় নিয়ন্ত্রণ হারাবে মূল তৃণমূল: সংসদে মূল দল হিসেবে স্বীকৃতি, ভালো ঘর এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির রাশ চলে যাবে এই নতুন বিদ্রোহী ব্লকের হাতে।
- দিল্লিতে ক্ষমতা হ্রাস: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।
- হাতেগোনা সাংসদ: মূল তৃণমূল শিবিরে তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কীর্তি আজাদের মতো মাত্র হাতেগোনা ৩-৪ জন সাংসদ পড়ে থাকবেন, যা দিল্লির দরবারে তাঁদের রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দেবে।
জোড়াফুল প্রতীক কি হাতছাড়া? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্পিকারের স্বীকৃতির পর এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারে। সেখানে তারা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ দাবি করে দলীয় প্রতীক অর্থাৎ ‘জোড়াফুল’-এর ওপর মালিকানা দাবি করতে পারে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, পার্থ ভৌমিক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা।
বিধানসভার পর এবার কি তবে দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্যের অবসান ঘটতে চলেছে? স্পিকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য-রাজনীতি।