ভারত বিশ্বাসঘাতকদের ধর্মশালা নয়! লাভ জেহাদ নিয়ে বিস্ফোরক যোগী

ভারত বিশ্বাসঘাতকদের ধর্মশালা নয়! লাভ জেহাদ নিয়ে বিস্ফোরক যোগী

যাঁরা দেশের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে সম্মান করেন না এবং বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তাঁদের জন্য ভারত কোনও ধর্মশালা নয়। মঙ্গলবার লখনউতে আয়োজিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এভাবেই কড়া বার্তা দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি ‘লাভ জেহাদ’-এর মতো স্পর্শকাতর বিষয়টিকে দেশের জনবিন্যাস পরিবর্তনের গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়ে সমাজকে নেতিবাচক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ভগবান রাম

ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভগবান রাম হলেন ভারতের জাতীয় ঐক্যের এক অবিচ্ছেদ্য ও শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া দেশের প্রায় প্রত্যেকের ডিএনএ-তেই ভারতীয়ত্বের রক্ত মিশে রয়েছে এবং তাঁরা রামের আদর্শকে নিজেদের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা রাম জন্মভূমি আন্দোলনকে ভারতের সভ্যতা ও ঐতিহ্য রক্ষার ব্রত হিসেবেই ব্যাখ্যা করেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই ২০১৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় এবং আইনি লড়াইয়ে সাধু-সন্তদের, বিশেষত স্বামী রামভদ্রাচার্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন যোগী।

জনবিন্যাস পরিবর্তনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

‘লাভ জেহাদ’ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে যোগী আদিত্যনাথ একে ভারতের জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি পরিবর্তনের একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০০৯ এবং ২০১১ সালেও হাই কোর্ট এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এই নেতিবাচক প্রবণতা রুখতে ২০২০ সালে উত্তরপ্রদেশ সরকার বেআইনি ধর্মান্তর রোধে কড়া আইন প্রণয়ন করেছে বলে জানান তিনি। তবে শুধু আইন নয়, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় সমাজে আরও ব্যাপক সচেতনতা গড়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার মূল কারণ হলো সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদকে সুসংহত করা এবং ধর্মান্তরকরণ রোধে সামাজিক সমর্থন আরও মজবুত করা। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের নানা প্রান্তে ধর্মান্তরকরণ বিরোধী আইন প্রয়োগে প্রশাসন আরও কঠোর হতে পারে এবং এই ইস্যুতে সামাজিক স্তরে নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *