৬৪ বিধায়কের পর এবার ১৯ সাংসদ, দেব, রচনা ও সায়নীকে নিয়ে ধসে পড়ল মমতার লোকসভা দল!

রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন এবার সুনামির আকার ধারণ করল। বিধানসভায় ৬৪ জন বিধায়কের বিদ্রোহের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লোকসভাতেও নজিরবিহীন ধস নামল রাজ্যের শাসক দলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে একঝাঁক তারকা সাংসদ— মোট ১৯ জন লোকসভা সদস্য একযোগে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এই গণ-বিদ্রোহের জেরে দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত অস্তিত্ব সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
তালিকায় তারকা থেকে প্রবীণ নেতৃত্ব
বিদ্রোহী ১৯ সাংসদের সই করা এই তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বারাসাতের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং কলকাতা দক্ষিণের মালা রায়ের মতো মমতা-ঘনিষ্ঠ নেত্রীদের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছেন যাদবপুরের সায়নী ঘোষ, হুগলির রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঘাটালের দেব (দীপক অধিকারী) এবং মেদিনীপুরের জুন মালিয়ার মতো জনপ্রিয় তারকা মুখেরা। শুধু তাই নয়, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক, আসানসোলের শত্রুঘ্ন সিনহা এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠানের মতো হাইপ্রোফাইল জয়ী প্রার্থীরাও এখন দল ছাড়ার লাইনে। বীরভূমের শতাব্দী রায়, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী এবং মুর্শিদাবাদের আবু তাহির খানের মতো শক্তিশালী সাংগঠনিক নেতারাও এই তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন কোচবিহারের জগদীশ বসুনিয়া, জঙ্গিপুরের খালি উর রহমান, মথুরাপুরের বাপি হালদার, আরামবাগের মিতালী বাগ, ঝাড়গ্রামের কালীপদ সোরেন, পূর্ব বর্ধমানের ডঃ শর্মিলা সরকার এবং বোলপুরের অসিত কুমার মাল।
বিদ্রোহের কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের বিপর্যয় এবং পরবর্তীতে দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষই এই গণ-বিদ্রোহের মূল কারণ। দলের পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে নতুন কমিটি গঠন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে জমতেই এই চূড়ান্ত ফাটল ধরেছে। এই নজিরবিহীন দলত্যাগের প্রভাব হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি এক ধাক্কায় তলানিতে এসে ঠেকার ফলে জাতীয় রাজনীতিতে দলের প্রভাব ও দর কষাকষির ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতে চলেছে। একই সঙ্গে, দলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদদের এই বিপুল সংখ্যা রাজ্যে তৃণমূল সরকারের স্থায়িত্ব এবং দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অস্তিত্বকে এক বড়সড় আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।