২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল দিঘার জগন্নাথ ধাম, নতুন ফ্লেক্সে ফিরল সরকারি নাম

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল দিঘার জগন্নাথ ধাম, নতুন ফ্লেক্সে ফিরল সরকারি নাম

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বদলে গেল দিঘার জগন্নাথ মন্দির চত্বরের পরিচিতি। পূর্বতন সরকারের দেওয়া ‘জগন্নাথ ধাম’ নামটির অবসান ঘটিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে বসানো হলো নতুন ফ্লেক্স। এখন থেকে এই চত্বরটি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’ বা ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। বুধবার দিঘার মূল প্রবেশদ্বারের বাইরের বোর্ডটি সরিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতায় এই নতুন নামকরণ কার্যকর করা হয়।

নাম পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ

দিঘার এই মন্দিরকে ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। সরকারি নথিতে প্রকল্পটির মূল নাম ‘কালচারাল সেন্টার’ বা ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ থাকলেও, নির্মাণের পর সেখানে ‘ধাম’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা থাকাকালীনই শুভেন্দু অধিকারী এই নামকরণের বিরোধিতা করেছিলেন। সম্প্রতি রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দিঘার এই মন্দির এ বার থেকে সরকারি নথিতে থাকা প্রকৃত নামেই পরিচিত হবে। ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকেও এই ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। পুরীর বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র স্বয়ং সেই চিঠি নিয়ে এসে বৈঠক করার পরই মুখ্যমন্ত্রী এই সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব

নতুন এই নামকরণের সময় মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য তথা কলকাতা ইস্কনের সভাপতি রাধারমণ দাস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার পূর্বতন সরকারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক সংশোধন করল। বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডলের মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং সনাতনী ভাবধারা বজায় রেখে একটি প্রশাসনিক ভুল সংশোধন। অন্যদিকে, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দূরে সরিয়ে রেখে ভক্তিমূলক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে ওড়িশা সরকারের সাথে দিঘার মন্দিরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও ধর্মীয় টানাপড়েনের অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *