‘সংকটে শেষ হাসি মমতারই’, দল ভাঙার খেলায় ‘দিদি’র ঢাল মদন মিত্র!

তৃণমূলের অন্দরে এখন বেনজির মহাধস। একদিকে বিধানসভায় ‘ঋতব্রত মডেল’ আর অন্যদিকে লোকসভায় ‘কাকলি মডেল’— দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে কার্যত কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। কলকাতা থেকে দিল্লি, দলের একের পর এক বিশ্বস্ত সেনাপতি যখন হাতছাড়া হচ্ছে, ঠিক তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, দল যখনই কোনো বড় সংকটে পড়েছে, প্রতিবারই শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ঘাসফুল শিবির
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন একাধিক শীর্ষনেতা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, দল এখন আক্ষরিক অর্থেই আড়াআড়ি বিভক্ত।
- বিধানসভায় ‘ঋতব্রত মডেল’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অমান্য করে তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক রীতিমতো বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁরা বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মেনে নিয়ে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন, এবং স্পিকারের তরফ থেকে ঋতব্রতকে সেই মর্যাদাও দেওয়া হয়েছে।
- লোকসভায় ‘কাকলি মডেল’: দিল্লিতেও ছবিটা একই রকম বিস্ফোরক। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দলের ২০ জন সাংসদ নিজেদের আলাদা ব্লক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। লোকসভায় তৃণমূলের থেকে আলাদা বসার জায়গার দাবির পাশাপাশি তাঁরা এনডিএ জোটে শামিল হওয়ার জল্পনাও উসকে দিয়েছেন।
লড়াই সবে শুরু, বার্তা মদনের
দলের এমন চরম দুর্দিনেও দলনেত্রীর প্রতি নিজের অবিচল আস্থার কথা পুনরুল্লেখ করেছেন মদন মিত্র। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতাদের দলত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন প্রত্যেকে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করছে। তবে দল যখনই সংকটে পড়েছে, শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই জয় হয়েছে— এটা আগামী দিনেও প্রমাণ হয়ে যাবে। তিনি এখন একটা মস্ত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আমাদের শুধু অপেক্ষা করতে হবে, লড়াইটা কিন্তু সবে শুরু হয়েছে।”
একদা মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রী মদন মিত্রের রাজনৈতিক জীবনের গ্রাফে সারদা কাণ্ডের পর অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়া কিংবা টিকিট পাওয়া নিয়ে টানাপোড়েন— সব বিতর্ককে পাশে সরিয়ে রেখে এই কঠিন সময়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “আমি চিরকাল তৃণমূলের সঙ্গেই ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছি। তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা তাতেই সায় দেব।”
চারপাশের চেনা মানুষগুলো যখন একে একে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন ‘রঙিন’ মদনের এই চেনা আনুগত্য নিশ্চিতভাবেই কিছুটা অক্সিজেন দেবে তৃণমূল নেত্রীকে।