দিদিকে রাজ্যসভায় পাঠানোর ছক অভিষেকের! ঘরে তীব্র ভাঙনের মাঝেই দিল্লিতে তৃণমূলের মেগা চাল

নয়া দিল্লি: বাংলায় যখন দলের অন্দরে তীব্র বিদ্রোহ আর ভাঙনের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই দিল্লির বুকে এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক চাল চাললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে সেখানে তাঁকে বিরোধী দলনেত্রী (LoP) করার প্রস্তাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিল্লির ১০ জনপথের বাসভবনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন অভিষেক। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই রাহুলের সঙ্গে অভিষেকের এই বৈঠক এবং মমতাকে কেন্দ্র করে এই নতুন রণকৌশল নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলী প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে জাতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে তুলে ধরা। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই মেগা বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন খোদ বাংলায় তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি কাঁপছে। ইতিমধ্যেই সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের মতো হেভিওয়েট সাংসদদের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে ১১-তে ঠেকেছে। এর ওপর আবার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবির দাবি করেছে যে, প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ (NDA) জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি বিক্ষুব্ধরা নিজেদের মতো করে দলের সমান্তরাল কমিটিও ঘোষণা করে দিয়েছেন।
ঘরের মাঠের এই তীব্র গৃহযুদ্ধ সামাল দিয়ে এবং অন্যদিকে মমতাকে দিল্লির মসনদের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার।