সরকারি কর্মচারীদের লটারি! ২২ জুনের বাজেটে বকেয়া ডিএ-র মেগা ঘোষণা

সরকারি কর্মচারীদের লটারি! ২২ জুনের বাজেটে বকেয়া ডিএ-র মেগা ঘোষণা

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) এবং বকেয়া টাকা নিয়ে এবার সবচেয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা রাজ্য বাজেটেই সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের জন্য ডিএ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ও বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র যে ৪২ শতাংশের ফারাক রয়েছে, তা ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ মিটিয়ে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালুর বিষয়েও সবুজ সংকেত দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত মে মাসেই নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে ক্যাবিনেট বৈঠকে এই নতুন বেতন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন মিলেছে।

পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের ডিএ সংক্রান্ত রায় রাজ্য সরকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বলেও যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছিল, ডিএ কর্মচারীদের আইনি অধিকার এবং ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যকার সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী ডিএ বকেয়া এবং পে কমিশনের টাকা ইতিমধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করে প্রথম দিনেই প্রায় ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পের ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, স্ক্রুটিনি বা যাচাই পর্ব চালাতে গিয়ে দেখা গেছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ২.২ কোটি উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মহিলার নাম ভোটার তালিকাতেই নেই এবং প্রায় ৩ লক্ষ পুরুষ জালিয়াতি করে এই নারী-কল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। সরকারি কোষাগারের টাকার অপচয় রুখতেই এই কড়া যাচাইকরণ প্রক্রিয়া জরুরি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *