কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা! জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন ‘চিরশত্রু’ অধীর

তৃণমূল কংগ্রেসকে অবলুপ্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার জল্পনা বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষের তরফেই এখনো কিছু জানানো হয়নি, তবে এই গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো বড় ধাক্কা বা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের বাধ্যবাধকতা থেকেই এই ধরনের সংযুক্তির জল্পনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, তবে রাজনৈতিক লড়াই জারি
রাজ্যে মমতার কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই জল্পনার প্রেক্ষিতে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তবে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ধারাবাহিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করার চেষ্টা করেছে। দলের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ধর্ম। অধীরের মতে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণেই হয়তো তৃণমূল নেত্রী কংগ্রেসে ফেরার কথা ভাবছেন। তবে এই আচমকা সংযুক্তির খবরে কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীরা যে চরম বিভ্রান্তিতে রয়েছেন, সে কথাও তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই জল্পনার মাঝে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা আরএসএস ও বিজেপির স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে লড়তে চান, তাঁদের সকলের জন্যই কংগ্রেসের দরজা খোলা। যদি এই সংযুক্তির জল্পনা বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী জোটকে যেমন শক্তিশালী করবে, তেমনই রাজ্য স্তরে দুই দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত মেটানোর এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।