প্রেমের মর্মান্তিক পরিণতি! বিষ খাইয়ে প্রেমিকাকে খুন, হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি লাশ নদীতে ফেলল প্রেমিক

উত্তরপ্রদেশ: উত্তরপ্রদেশে ভালোবাসার নামে এক শিউরে ওঠার মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে এসেছে। এক যুবক তার প্রেমিকাকে বিষ খাইয়ে খুন করার পর, মৃতদেহের সঙ্গে যে অমানুষিক বর্বরতা চালিয়েছে, তা শুনে থমকে গেছে পুলিশও। খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য নৃশংসতার সব সীমা পার করে দেয় ওই যুবক। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। মৃত ওই নারী বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর দুটি সন্তানও রয়েছে। স্বামীর সাথে সংসার চলাকালীনই অভিযুক্ত যুবকের সাথে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভালোবাসার টানে একসময় স্বামী ও সন্তানদের ছেড়ে ওই যুবকের সাথে ‘লিভ-ইন’ রিলেশনশিপে থাকতে শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও, কিছুদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। এর মাঝেই যুবকের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়। অন্যদিকে, ওই নারী সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য এক ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন বলে সন্দেহ করতে শুরু করে অভিযুক্ত। এই সন্দেহের জেরেই প্রেমিকাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে সে।
ইউটিউব দেখে খুনের ব্লু-প্রিন্ট:
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুনের আগে ইন্টারনেটে রীতিমতো সার্চ করে পড়াশোনা ও ভিডিও দেখেছিল অভিযুক্ত। ‘কীভাবে বিষ খাইয়ে খুন করা যায়’ এবং ‘খুনের পর কীভাবে লাশ গায়েব করা সম্ভব’—ইন্টারনেটে এইসব দেখেই খুনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে সে। পরিকল্পনা মাফিক, চলতি মাসের ৭ তারিখে প্রেমিকাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কসের সাথে বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে দেয়। সেটি খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় ওই নারীর।
লাশের সাথে চরম বর্বরতা:
হত্যার পর মৃতদেহের সাথে যুবকের আচরণ ছিল আরও ভয়ঙ্কর। লাশটি যাতে সোজা থাকে, সেজন্য নিহতের হাত ও পা শক্ত করে বেঁধে একটি বস্তার ভেতরে পুরে দেয় সে। এরপর মাঝরাতে বাইকে করে সেই বস্তাবন্দি লাশ নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে আসে। গত ১৬ তারিখে নদীর চরে একটি বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। নারীর হাতে লেখা নামের সূত্র ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে তাঁর পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।
পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা:
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট জানা যায়, বিষক্রিয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে ওই নারীর এবং তাঁর শরীরে বাঁধার দাগ রয়েছে। এদিকে পুলিশকে ধোঁকা দিতে নিহতের ফোন থেকে একটি পুরোনো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে অভিযুক্ত যুবক, যাতে মনে হয় ওই নারী অন্য কারও সাথে চলে গেছেন। কিন্তু পুলিশের কড়া জেরার মুখে শেষরক্ষা হয়নি। যুবকের বাড়ি থেকে কীটনাশকের বোতল এবং লাশ পাচারে ব্যবহৃত বাইকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে অভিযুক্ত প্রেমিক। আপাতত তার জায়গা হয়েছে জেলহাজতে।