মমতা কংগ্রেসে গেলে জোট ছাড়বে বামেরা! চটেছে প্রদেশ কংগ্রেসও

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনা তীব্র হতেই রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস মিলেছে। এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিলে প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া’ জোট ছাড়ারও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিচ্ছে সিপিএম। অন্যদিকে, শীর্ষ নেতৃত্বের এমন পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খোদ প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ।
ইন্ডিয়া জোটে ভাঙনের আশঙ্কা
সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা সিপিএমের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আঁচ করেই জোটের বৈঠকে শীর্ষ নেতাদের বদলে প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসকে পাঠায় সিপিএম। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মতে, তৃণমূল বর্তমানে প্রাসঙ্গিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের হাত ধরলে সিপিএম শুধুমাত্র প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গেই সম্পর্ক ছিন্ন করবে না, জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটে তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রদেশ কংগ্রেসেও ক্ষোভের আগুন
মমতার কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনায় চরম অসন্তুষ্ট রাজ্যের কংগ্রেস নেতারাও। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান বিষয়টিকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, নর্দমার জল গঙ্গাকে অপবিত্র করে তোলে। কংগ্রেস এই জলে নিজেদের অপবিত্র করবে কি না, তা এখন দলের হাই কমান্ডকেই বিবেচনা করতে হবে। বুধবার রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নয়া সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্ব বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে, তেমনই রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোটও চিরতরে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।