ভালোবাসার নয়া কারিগর এআই! নিখুঁত প্রেমের আড়ালে বাড়ছে একাকীত্ব

প্রযুক্তির যুগে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে প্রেমের চিরপরিচিত ব্যাকরণ। গ্লিডেন এবং ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক যৌথ সমীক্ষায় আধুনিক সম্পর্কের এক চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে। প্রায় ১৫০০ ভারতীয়র ওপর চালানো এই সমীক্ষা জানাচ্ছে, দেশের প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষ এখন প্রেমের পরামর্শদাতা বা ‘ডেটিং কোচ’ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্য নিচ্ছেন। ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের পর্দায় ফুটে ওঠা রোমান্টিক সংলাপের নেপথ্যে এখন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগের চেয়ে অ্যালগরিদমের আধিপত্যই বেশি।
ডেটিং প্রোফাইল থেকে কথোপকথনে এআইয়ের দখল
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মনের মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য আর বন্ধুদের পরামর্শের প্রয়োজন পড়ছে না। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬৬ শতাংশ ভারতীয় তাঁদের ডেটিং প্রোফাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ার বায়ো আকর্ষণীয় করে তুলতে এআই-এর শরণাপন্ন হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ৬১ শতাংশ ব্যবহারকারী রিয়েল টাইমে তাঁদের কথোপকথন সাজিয়ে নিতেও এআই ব্যবহার করছেন। প্রথম দেখার জড়তা কাটানো, চটজলদি রসিকতাপূর্ণ উত্তর তৈরি করা কিংবা মান-অভিমানের পালায় সঠিক শব্দটি বেছে নিতে এআই এখন এক নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল উইংম্যান হিসেবে কাজ করছে।
কৃত্রিম নিখুঁততার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সংকট
এআইয়ের সাহায্যে নিখুঁত প্রেমিক বা প্রেমিকার ভাবমূর্তি গড়ে উঠলেও, এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক শূন্যতা। সমীক্ষার তথ্যমতে, এআই-নির্ভর প্রেমের ক্ষেত্রে ৫৭ শতাংশ মানুষই আদতে তীব্র একাকীত্বে ভুগছেন। অ্যালগরিদম হয়তো নিখুঁত কবিতা বা বার্তা লিখে দিতে পারে, কিন্তু দুটি মানুষের অকৃত্রিম রসায়ন তৈরি করতে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এছাড়া এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে এক ধরনের চোরা অপরাধবোধও কাজ করছে ব্যবহারকারীদের মনে। ৬৯ শতাংশ ভারতীয় তাঁদের এআই চ্যাটের ইতিহাস অন্যের সামনে প্রকাশ করতে একেবারেই নারাজ। এই যান্ত্রিক গোলকধাঁধায় মানুষের আসল দুর্বলতা, খামখেয়ালিপনা এবং আবেগের আসল ছোঁয়া হারিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আধুনিক প্রেম পরিণত হচ্ছে নিখুঁত অভিনয়ে।