গুজরাতের রাজ্যসভায় অস্তিত্ব সংকটে কংগ্রেস! মোদী-শাহের গড়ে ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় বিজেপি

আগামী ১৮ জুন গুজরাতের চারটি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১৮২ আসন বিশিষ্ট গুজরাত বিধানসভায় ১৬১ জন বিধায়ক নিয়ে শাসক দল বিজেপি এবার চারটি আসনেই জয়ের পথে রয়েছে। এই ফলাফল নিশ্চিত হলে প্রথমবারের মতো গুজরাত থেকে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের কোনো প্রতিনিধি থাকবে না, যা রাজ্যটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বিধানসভার সমীকরণে ব্যাকফুটে বিরোধীরা
বর্তমানে গুজরাত বিধানসভার গাণিতিক হিসাব বিরোধীদের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল। রাজ্যসভা নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে জয়ী হতে প্রয়োজন ৪৬ জন বিধায়কের সমর্থন। বিপরীতে, বর্তমানে গুজরাতে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা মাত্র ১২ এবং আম আদমি পার্টির (আপ) রয়েছে ৫ জন। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থী দেওয়ার মতো ন্যূনতম প্রস্তাবক বিধায়কের অভাব রয়েছে বিরোধী শিবিরে। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট সংখ্যা না থাকায় কংগ্রেসের পক্ষে এই নির্বাচনে লড়াই করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শক্তিশালী বিধায়ক সংখ্যার জোরে বিজেপি একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের পথে রয়েছে।
বিজেপির লক্ষ্য ও প্রভাব
বিজেপি ইতিমধ্যে আসন্ন নির্বাচনের জন্য নিজেদের চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। শাসক দল এই জয়কে কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং গুজরাতকে পুরোপুরি ‘কংগ্রেস-মুক্ত’ করার মাইলফলক হিসেবে দেখছে। এর আগে লোকসভা নির্বাচনেও রাজ্যে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছিল বিজেপি। ১৮ জুনের নির্বাচনের পর রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি যেমন বাড়বে, তেমনি সংসদের উচ্চকক্ষে গুজরাতের প্রতিনিধিত্ব থেকে দীর্ঘদিনের পুরোনো বিরোধী দলটির নাম মুছে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কংগ্রেস কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও তাদের দাবি, বিধায়ক সংখ্যা নয়, বরং জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। তবে আপাতত সংসদের উচ্চকক্ষে গুজরাতের সবকটি আসনে গেরুয়া পতাকাই উড়তে চলেছে।