ইরানে আজ রাতে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন যে, আজ রাতেই ইরানে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই হামলার ধারাবাহিকতায় ইরান এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন।
ইরানের তেল সম্পদের ওপর নজর আমেরিকার
সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, আমেরিকার লক্ষ্য এখন ইরানের খর্গ দ্বীপ দখল করা। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটিতে দেশটির মোট উৎপাদিত অশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ওয়াশিংটন। তিনি বিষয়টিকে দুই দেশের জন্যই ‘ফলপ্রদ’ বলে দাবি করলেও বিশ্ববাজারে এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে চলা ধারাবাহিক এই সংঘাতের সূত্রপাত হরমুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন হামলাকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা আক্রমণ চালালে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ট্রাম্পের মতে, ইরান দীর্ঘ সময় আলোচনার নাটক করে সময় নষ্ট করেছে, যার মাশুল তাদের এখন গুনতে হবে। পেন্টগনের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একে ‘আত্মরক্ষামূলক অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করলেও, বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সংঘাত কেবল সামরিক সক্ষমতা হ্রাসে নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের চেইনকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।