তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলারের গুদামে সরকারি বালতির পাহাড়! বাঁকুড়া পুরসভায় তুমুল বিক্ষোভ বিজেপির
বাঁকুড়া: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ ঘাসফুল শিবির। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাঁকুড়া পুরসভার নির্দল তথা তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলার দেবাশিস লাহার নাম। তাঁর গুদাম থেকে সরকারি প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ বালতি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বাঁকুড়া পুরসভা এলাকা। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ওই কাউন্সিলার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেশ কিছু টোটো বা ই-রিকশায় করে সরকারি প্রকল্পের বালতি বোঝাই করে পুরসভার সামনে নিয়ে আসা হচ্ছিল। অভিযোগ, বালতিগুলি গোপনে পুরসভার ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই পথ আটকায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, দশেরবাঁধ ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলার দেবাশিস লাহার কার্যালয়ের পেছনের একটি গুদাম থেকে এই বালতিগুলি আনা হচ্ছিল। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। ওই কাউন্সিলারকে ঘিরে ধরে চলে তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে সরকারি প্রকল্পের বালতি নিজের গুদামে অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছিলেন ওই তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলার। এই ঘটনার পর থেকেই দেবাশিস লাহার কোনো খোঁজ মিলছে না, এমনকি তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। জেলার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত মজুমদার বলেন, “পুরসভার এই জিনিসগুলি নিয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার। এলাকার সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলারের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে আরও অনেক কিছু উদ্ধার হবে।”
এদিকে এই বালতি-কাণ্ডের পাশাপাশি বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদারের বিরুদ্ধে পুরসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল লোপাটেরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতেই পুরসভা থেকে গোপনে ফাইল সরানো হচ্ছে। এই জোড়া কেলেঙ্কারির জেরে বুধবার রাত থেকেই চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা বাঁকুড়া পুর এলাকায়।