‘মানব ঢাল’ তৈরির ডাক, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল সীমান্ত!

ভারতের জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ ইন’ এবং বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের প্রতিবাদে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মহামিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলের বিরোধী জোট। বুধবার ঢাকার মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন সীমান্তবর্তী সব জেলার চেকপোস্টের কাছে এবং ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগের শহিদ ওসমান হাদি চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সীমান্তে উত্তাপ ও জামাতের কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে জোরপূর্বক অনেক মানুষকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ইতিমধ্যে বড় ধরনের পুশ ইন ঘটে যেত বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে বিএসএফের গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। এছাড়া বিএসএফ ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মি যৌথভাবে ৮৩ জনকে আটক করে নিয়ে গেছে উল্লেখ করে, এ বিষয়ে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের অভাব নিয়েও সমালোচনা করা হয়।
‘মানব ঢাল’ গড়ার আহ্বান ও সম্ভাব্য প্রভাব
সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিরো লাইনের কাছাকাছি বসবাসকারী বাসিন্দাদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবাসীকে সচেতন ও বিজিবিকে আরও শক্তিশালী হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত বরাবরই ‘পুশ ইন’-এর এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই কেবল অবৈধ অভিবাসীদের যাচাই-বাছাই করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।