তৃণমূলের অন্দরে চরম বিদ্রোহ, বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

তৃণমূলের অন্দরে চরম বিদ্রোহ, বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

শাসকদলের অন্দরে তীব্র আকার ধারণ করেছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিদ্রোহী সাংসদ শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তাঁদের দিনের পর দিন দূরে রাখা হয়েছে এবং সংসদীয় কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র নামমাত্র পদে বসিয়ে তাঁদের লোক দেখানো হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সাংসদদের ক্ষোভ ও বঞ্চনার অভিযোগ

বিদ্রোহী সাংসদের মতে, দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা প্রায় আসাম্ভব। কোনো বিষয়ে অভিযোগ জানালে তার সুরাহা করার বদলে উল্টে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যেত। নিজের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অসন্তোষের মুখে পড়তে হতো তাদের। পাশাপাশি, সংসদে কী প্রশ্ন তোলা হবে বা কোনো বিষয়ে সরব হওয়া হবে, সে বিষয়ে তাঁদের মতামতকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হতো না। গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে না ডাকার পাশাপাশি দলের কিছু নেতার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে রাজনৈতিক দলের দোহাই দিয়ে তা এড়িয়ে যাওয়া হতো বলে অভিযোগ।

দলের বিভাজন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

দলের অন্দরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া এবং শীর্ষ নেতৃত্বের একপেশে সিদ্ধান্তের কারণেই এই বিদ্রোহের সূত্রপাত। যার ফলস্বরূপ বঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক বিভাজন এখন স্পষ্ট। বিধানসভায় যেমন বড় একটি অংশ দলত্যাগী গোষ্ঠীকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনই দিল্লিতেও লোকসভার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মতাদর্শগত দূরত্ব ও অভ্যন্তরীণ এই অসন্তোষ শাসকদলের সাংগঠনিক একতা ভেঙে ফেলার পাশাপাশি আগামী দিনে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে বড় ধরনেরল রদবদল ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *