তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন, রাজ্যসভায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ!

লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরল। দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই গত চার দিনের ব্যবধানে সুস্মিতা দেব, প্রকাশচিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিক ইস্তফা দেওয়ায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে নেমে ৯-এ এসে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগের এই ঘটনায় তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত কার্যত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজ্যসভার বর্তমান সমীকরণ
সাংসদদের এই ইস্তফার জেরে বর্তমানে রাজ্যসভায় তৃণমূলের অবশিষ্ট ৯ জন সদস্য হলেন ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার, নাদিমুল হক, মমতাবালা ঠাকুর, সামিরুল ইসলাম, সাগরিকা ঘোষ এবং মানেকা গুরুস্বামী। তবে এই তালিকার কতজন শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অটল থাকেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। ডেরেক ও ব্রায়েন কিংবা দোলা সেনের মতো ঘনিষ্ঠ নেতাদের ওপর তৃণমূলনেত্রী সম্প্রতি বাড়তি দায়িত্ব অর্পণ করলেও, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভবিষ্যৎ সংকট
দলের এই ভাঙনের পেছনে দীর্ঘদিনের অনুগত নেতাদের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে, রাজীব কুমার কিংবা সাগরিকা ঘোষের মতো নেতাদের ভূমিকা এবং তাদের ওপর দলের আস্থার জায়গাটি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, যেভাবে তাসের ঘরের মতো পুরনো সাংসদ ও বিধায়করা তৃণমূল ছাড়ছেন, তাতে এই ৯ জন সদস্যের ওপর দলের নিয়ন্ত্রণ কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই গভীর আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। রাজ্যসভায় তৃণমূলের এই ক্রমহ্রাসমান শক্তি দলের জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।