বেতনের দৌড়ে এগিয়ে চেন্নাই, কর্মক্ষেত্রে এআই এখন নতুন বিপ্লব!

বেতনের দৌড়ে এগিয়ে চেন্নাই, কর্মক্ষেত্রে এআই এখন নতুন বিপ্লব!

কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআই-এর ব্যবহার এখন আর কোনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আটকে নেই, বরং এটি দেশের লক্ষ লক্ষ পেশাদারের কর্মজীবনের একটি অপরিহার্য বাস্তব। ‘মাইকেল পেজ’-এর সর্বশেষ ‘ট্যালেন্ট ট্রেন্ডস ২০২৬ ইন্ডিয়া’ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের প্রায় ৭৩ শতাংশ পেশাদার দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন, যা মাত্র দুই বছর আগেও ছিল মাত্র ৪৭ শতাংশ। উৎপাদন, পরিকাঠামো, ইলেকট্রিক ভেহিকল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিল্প ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের কারণে দেশের বিভিন্ন শহরে বেতনের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে বেঙ্গালুরু ও মুম্বাইকে টেক্কা দিয়ে বেতনের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চেন্নাই। আইটি বলয়ের বাইরে লেখালেখি, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই বিস্তার বেতন বৃদ্ধির এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে।

রিক্রুটমেন্ট থেকে সিভি, সর্বত্রই এআই-এর দাপট

চাকরি খোঁজা এবং প্রার্থী বাছাই—উভয় প্রক্রিয়াতেই এখন এআই-এর ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রার্থীরা নিজেদের সিভি আকর্ষণীয় করতে ও অ্যাপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেমের উপযোগী করে তুলতে এআই টুল ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, রিক্রুটাররাও ইন্টারভিউয়ের প্রশ্ন তৈরি বা চাকরির বিবরণ লেখার কাজে এর সাহায্য নিচ্ছেন। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অতি-ব্যবহারের ফলে ৮১ শতাংশ নিয়োগকর্তা সহজেই বুঝতে পারছেন কোন সিভিতে এআই-এর সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তির নকল করা সম্ভব নয় এমন কিছু গুণের ওপর জোর দিচ্ছেন নিয়োগকর্তারা। ইন্টারভিউয়ের সময় প্রার্থীর সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চাকরি হারানোর ভয় ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ

সাধারণত এআই নিয়ে আলোচনা উঠলেই গণহারে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে এই রিপোর্ট ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। সামগ্রিক কর্মক্ষেত্রের মাত্র ৩৩ শতাংশ কর্মী এআই-এর কারণে দীর্ঘমেয়াদী চাকরি সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত। তবে চাকরির স্থায়িত্ব যাদের কম, তাদের মধ্যে এই উদ্বেগ অনেক বেশি। অস্থায়ী কর্মী, শিক্ষানবিশ ও ফ্রিল্যান্সারদের যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ, ৬৪ শতাংশ এবং ৬০ শতাংশ কর্মী এআই নিয়ে আতঙ্কিত। মূলত অনিশ্চয়তায় থাকা কর্মীরাই এই প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে বেশি শঙ্কিত। সার্বিকভাবে এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়ার বদলে ইমেল বা স্প্রেডশিটের মতোই কর্মক্ষেত্রের আরেকটি প্রয়োজনীয় হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। পেশাদাররা এই পরিবর্তনের সাথে দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে কাজের মান ও উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *