প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বিতর্কে উত্তাল দেশ, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে মাঠে নামল সিজেপি!

প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বিতর্কে উত্তাল দেশ, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে মাঠে নামল সিজেপি!

দেশজুড়ে একের পর এক পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে তরুণ প্রজন্ম। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এবার দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনে নামল যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার পুণেতে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। সাবিত্রীবাই ফুলে পুণে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের সূচনা পর্বে পরিবেশ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষা ইস্তহার ও মূল দাবিদাওয়া

আন্দোলন শুরুর পাশাপাশি এদিন সংগঠনের তরফে একটি বিশেষ ‘শিক্ষা ইস্তহার’ প্রকাশ করা হয়। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা ও দুর্নীতি রুখতে এই ইস্তাহারে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি রাখা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রতিযোগিতামূলক ও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস চিরতরে বন্ধ করা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা আনা, পরীক্ষা শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়ামক সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা। মূলত কোটি কোটি শিক্ষার্থীর মানসিক হেনস্থা ও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার প্রতিবাদেই এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

দিল্লিতে মহা সমাবেশের হুঁশিয়ারি ও ডিজিটাল দমন

পুণ্যের পর জয়পুর, লখনউ, অমৃতসর এবং বেঙ্গালুরুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপর আগামী ২০ জুন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রসমাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্নায় বসবে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই এই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি, সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনা এড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করে ‘ডিজিটাল দমন’ চালানোরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সিজেপি।

আন্দোলনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফেরানোই এই তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলনের প্রধান কারণ। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুব বিক্ষোভ যদি ক্রমশ দানা বাঁধে এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তের শিক্ষার্থীরাও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তবে তা কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতি ও শিক্ষানীতির সংস্কারের ক্ষেত্রেও এর গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *