সীমান্তের কাঁটাতারে মহা ‘ধড়পাকড়’! জিরো লাইনে বন্দি বাংলাদেশি, বিএসএফ-বিজিবির টানাপোড়েনে যুদ্ধকালীন উত্তেজনা

সীমান্তের কাঁটাতারে মহা ‘ধড়পাকড়’! জিরো লাইনে বন্দি বাংলাদেশি, বিএসএফ-বিজিবির টানাপোড়েনে যুদ্ধকালীন উত্তেজনা

শিলং: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একেবারে নজিরবিহীন এক আজব কাণ্ড! দুই দেশের টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ (নো ম্যানস ল্যান্ড) খাঁচায় বন্দি পাখির মতো ফেঁসে গেলেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। ওপার থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চাইছে, অথচ ওদিক থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) তাঁকে ঢুকতে দিতে নারাজ। দুই তরফের এই ‘ঠেলাঠেলির’ জেরে সীমান্ত জুড়ে এখন চরম উত্তেজনা।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম গারো হিলস জেলার নদীর চর সেক্টরের মহেন্দ্রগঞ্জে। বিএসএফ সূত্রে খবর, ওই সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। জেরায় ওই ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকারও করে নেয়। এরপরই নিয়ম মেনে বিএসএফ তাঁকে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশব্যাক করতে বর্ডারে নিয়ে যায়।

আসল নাটকের শুরু হয় ঠিক এরপরই। ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে নিতে সাফ অস্বীকার করে ওপার বাংলার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। এমনকি ওদিকের কিছু স্থানীয় বাসিন্দাও ওই অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। বিএসএফ ও বিজিবির এই অনড় অবস্থানের জেরে শেষমেশ দুই দেশের কাঁটাতারের মাঝখানের জমিতেই আটকে পড়েন ওই হতভাগ্য ব্যক্তি।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা বর্ডারের থমথমে পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দুই দেশের তরফেই সীমান্তে জওয়ানদের গতিবিধি একধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই হাইভোল্টেজ টানাপোড়েন নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিএসএফ বা বিজিবি—কোনো পক্ষই অফিশিয়াল কোনো বিবৃতি দেয়নি।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। জেলায় জেলায় তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সেখান থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে। আর এই আবহে মেঘালয় সীমান্তের এই জটিলতা দুই দেশের নিরাপত্তা এজেন্সির কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *