ফিরহাদকে ঘিরে উত্তপ্ত তৃণমূলের অন্দরমহল বাড়ছে বিদ্রোহীর সংখ্যা

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বর্তমানে এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দলের একসময়ের ঘনিষ্ঠ নেতা তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবিরের চাপ বাড়িয়ে বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা ৬৫-র কোঠায় পৌঁছাতে পারে। এই নতুন সমীকরণ তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের সম্ভাবনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করা সম্মিলিতভাবে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা শাসকদলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে।
আইনি লড়াইয়ের পথে বিদ্রোহীরা
দলের প্রতীক ও মালিকানা নিয়ে এবার বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী বিধায়করা সংসদীয় দলের মাধ্যমে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। এই আইনি পথ অনুসরণ করলে দলের নাম ও প্রতীক দখলের লড়াই আরও জটিল আকার ধারণ করবে।
নিরাপত্তার প্রশ্নে অস্বস্তি
বিধায়ক এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এখন তৎপরতা তুঙ্গে। বুধবার এ বিষয়ে ডিজির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা। রাজ্যজুড়ে বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এবং তাঁদের তালিকাও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, দলীয় কোন্দল কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংকটের দিকেও মোড় নিচ্ছে।