‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি!’ সাংবাদিকের প্রশ্নে ট্রাম্পের বিস্ফোরক ব্যঙ্গ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৩ সালের পর দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশে পৌঁছানোয় জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বুধবার এক সাংবাদিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প তা স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, তিনি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে শান্ত হয়ে তিনি এই পরিস্থিতির পেছনে ইরান সংঘাত ও জ্বালানি সংকটকে দায়ী করেন।
ইরান সংঘাত ও জ্বালানি সংকট
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাই বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ। বুধবার রাতে ইরানে আমেরিকার গোলাবর্ষণ ও তেহরানের পাল্টা জবাবে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রও একই সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সমাধান হলেই অর্থনীতির এই চাপ কেটে যাবে।
অর্থনীতিতে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এই সংঘাত সহসা থামার কোনো লক্ষণ নেই। সিরিক ও মিনাবের মতো ইরানি শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন ও নিত্যপণ্যের বাজারে। মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি মার্কিন অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওয়াকিবহাল মহল।